প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নতুন সরকার গড়তেই এবার খবরের শিরোনামে উঠে এল SSC নিয়োগ মামলা। ‘দাগি’দের টাকা ফেরানোর নির্দেশ নিয়ে ফের নানা সমালোচনা শুরু হল। জানা গিয়েছে, বিজেপি বাংলার মসনদে বসতেই সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ মেনে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ‘দাগি’ বা ‘টেন্টেড’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের (SSC Tainted Candidates) কাছ থেকে বেতন ফেরানোর উপর জোর দিল। সম্প্রতি বিকাশ ভবনের তরফে শীঘ্রই অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হল জেলা শাসকদের।
সুদ সহ বেতন ফেরত দিতে হবে দাগিদের
২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে অনিয়মের ঘটনায় ১,৮০৬ জন শিক্ষক ও ৩,৫১২ জন শিক্ষাকর্মীকে ‘দাগি’ বা ‘টেন্টেড’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই রিপোর্ট খোদ পেশ করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। আর এই তথ্যকে মান্যতা দিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনও দাগী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নাম সহ বিস্তারিত তথ্য তাঁদের পোর্টালে প্রকাশ করেছিল। এরপর ২০২৫–এর ৩ এপ্রিল বৈশাখী ভট্টাচার্য বনাম রাজ্য সরকার মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের তরফে নির্দেশ দিয়েছিল যে দাগিরা যত মাস চাকরি করেছেন সেই চাকরির ১২ শতাংশ সুদ সহ বেতন ফেরত দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু সেই নির্দেশ এত দিন আগের সরকার কার্যকর করতে উদ্যোগী হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে।
শিক্ষা দফতর থেকে পাঠানো হল বিজ্ঞপ্তি
দাগীদের চিহ্নিত করে স্কুল সার্ভিস কমিশন গত বছর যে নতুন পরীক্ষা নিয়েছে সেই পরীক্ষাতে তাদের বসার অনুমতি না দিলেও সুপ্রিম কোর্ট যে দাগীদের টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছিল সেই বিষয়ে এর আগে কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেনি বলেই অভিযোগ। তবে এবার নতুন সরকার আসতেই পাশা উল্টে গেল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবার দাগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে উঠে পড়ে লাগল শিক্ষা দফতর। সম্প্রতি শিক্ষা দফতর একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জেলা শাসকদের নির্দেশ দিয়েছে ২০১৬ সালের SSC পরীক্ষায় দাগী বলে চিহ্নিত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সুদ সমেত বেতনের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
আরও পড়ুন: কারা পাবেন না আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা? দেখুন সরকারের নির্দেশিকা
জানা গিয়েছে বিকাশ ভবন থেকে পাওয়া বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার শাসকরা, জেলা স্কুল পরিদর্শকদের পাঠিয়ে দিয়েছেন। জেলা স্কুল পরিদর্শকরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের গ্রুপেও জানিয়েছেন। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে আইনি জট এড়াতে এবং আদালতের কোপ থেকে বাঁচতে তৎপর হয়ে উঠেছে বিকাশ ভবন। এই প্রসঙ্গে শিক্ষা দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি জানিয়েছেন, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের নির্দেশিকা মেনেই দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে এবং তার ভিত্তিতে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী বৈশাখী ভট্টাচার্যের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত ও বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নতুন সরকার এসেই এই বিষয়ে নাড়া দিয়েছে। আশা রাখছি এবার সঠিক বিচার মিলবে।’’










