প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মাধ্যমিক পরীক্ষার (Madhyamik 2027) খাতা দেখার দায়িত্ব থেকে এবার মুক্তি পেতে চলেছেন প্রবীণ শিক্ষকরা, নতুন নিয়ম জারি করার চিন্তাভাবনা করছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board Of Secondary Education)। শুধু তাই নয়, এবার পরীক্ষা থেকে ফলপ্রকাশের সময় আরও কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। আর তাতেই মাথায় হাত পড়ল নবীন শিক্ষকদের। ফলপ্রকাশের তাড়ার মধ্যে কীভাবে সবটা সামলানো যাবে সেই নিয়ে ঘুম উড়ল একাংশের।
প্রবীণ শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হবে না
২০২৭-এ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে, যা শেষ হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি। পরীক্ষা দেওয়ার নিয়মের ক্ষেত্রে যেমন একাধিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে, ঠিক তেমনই খাতা দেখার ক্ষেত্রেও আনা হতে চলেছে একাধিক নিয়ম। প্রাথমিক
ভাবে মনে করা হচ্ছে এবার মাধ্যমিকের খাতা দেখার ক্ষেত্রে প্রবীণ শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। ফলে বোঝাই যাচ্ছে দায়িত্বের বোঝা বাড়বে নবীনদের। খাতা রিভিউয়ের ক্ষেত্রেও নয়া নির্দেশিকা আসতে চলেছে। কোনও পরীক্ষার্থী যদি খাতা রিভিউ করে এবং দেখা যায় তার অনেক নম্বর বৃদ্ধি হচ্ছে, তা হলে ডেকে পাঠানো হতে পারে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষক এবং প্রধান পরীক্ষককে।
নবীনদের অতিরিক্ত খাতা পাঠানো হবে
মূল্যায়ন নিয়ে কড়াকড়ি চাইছেন কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ ফলপ্রকাশের সময় এগিয়ে আনতে চাইছে পর্ষদ। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ হয়। কিন্তু এ বারে পর্ষদ চাইছে সেই দিনের সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনতে। সে ক্ষেত্রে এক একজন পরীক্ষকের কাছে অতিরিক্ত খাতা পাঠানো হতে পারে। কারণ মে মাসের প্রথম থেকেই একাদশের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। তার আগে যদি ফল প্রকাশ হয় তাহলে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে আর অসুবিধা হবে না। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে শিক্ষক মহলে।
আরও পড়ুন: রাজারহাট–গোপালপুরে মেগা চাকরি মেলা! নিয়োগের বড় উদ্যোগ বিধায়ক তরুণজ্যোতির
পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ হাজার শিক্ষককে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এক একজন শিক্ষক সাধারণত দু’টি প্যাকেট উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু এবার পর্ষদ, প্রয়োজনীয় শিক্ষকদেরই এই কাজে যুক্ত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংখ্যায় বেশি থাকবেন নবীন শিক্ষকেরা, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। এদিকে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তাঁর দাবি চিন্তাভাবনা সঠিক কিন্তু শিক্ষকদের দমন পীড়ন করা যাবে এমন কোনও নীতি যেন চালু না হয়।
কী বলছেন পর্ষদের সভাপতি?
অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক তথা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অ্যাডহক কমিটির সদস্য বাপি প্রামাণিক বলেন, ‘‘মাধ্যমিক নিয়ে পর্ষদের নানা ভাবনা রয়েছে। আমাদের সকলেরই উদ্দেশ্য সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা যেন ফিরে আসে সেই ব্যবস্থা করা।’’ এই প্রসঙ্গে পর্ষদের সভাপতি লালু দাস বলেন, ‘‘উত্তরপত্র মূল্যায়ন স্বচ্ছ ও যথাযথ করার জন্য নানা পরিকল্পনার করা হচ্ছে। আশা করি সকলে সাহায্য করলে দ্রুততার সঙ্গে নির্ভুল ভাবে ফল প্রকাশ করতে পারব। কারণ আমরা সাধারণ পড়ুয়া ও অভিভাবকের কাছে আমরা দায়বদ্ধ।”










