ত্রাতা জগন্নাথ সরকার! আমঘাটা-নবদ্বীপ ঘাট রেল প্রকল্প নিয়ে আশার আলো

Published:

Amaghata-Nabadwip Ghat Rail Project

সহেলি মিত্র,কলকাতাঃ আমঘাটা-নবদ্বীপ ঘাট রেল প্রকল্প (Amaghata-Nabadwip Ghat Rail Project) নিয়ে অবশেষে এল সুখবর। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই রেল প্রকল্পের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁদের সেই সকল অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে খুব শীঘ্রই বলে খবর। প্রায় ১৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও আমঘাটা কৃষ্ণনগর নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের রাস্তা কিছুটা হলেও পরিস্কার হল। এটি শান্তিপুর- কৃষ্ণনগর-নাবাদ্বীপ ঘাট সেকশনের অংশ। এই সেকশন ২০১০ সালে ন্যারোগেজ কনভার্শন প্রকল্পের জন্য বন্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু শান্তিপুর-কৃষ্ণনগর অংশ খুলে গেলে নবদ্বীপ ঘাটের দিকে জমির অভাবের কারণে কাজ আটকে যায়। এবার সেটা নিয়েই আপডেট সামনে এসেছে।

আমঘাটা-নবদ্বীপ ঘাট রেল প্রকল্প নিয়ে দারুণ সুখবর

গত ২০২৪ সালে কাজ আবার পুনরায় শুরু হয় আমঘাটা পর্যন্ত। এরপর ১৫ নভেম্বর ২০২৫ সালে পূর্ব রেলওয়ে শিয়ালদা ডিভিশন তিন জোড়া নতুন লোকাল সার্ভিস চালু করেছে আমঘাটা হল্ট এবং কৃষ্ণনগর সিটি জংশনের মধ্যে চলছে। এই ট্রেনগুলিরও দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। উপকৃত হচ্ছেন নদীয়া জেলার বাসিন্দারা। যদিও নবদ্বীপ ঘাট অংশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ আটকে থাকার কারণে মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছিল। তারওপর প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের ঢিলেমির জন্য এই কাজে আরও দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল। তবে এখন বাংলায় ক্ষমতা বদল হয়েছে। মসনদে বসেছে বিজেপি। ফলে এই কাজে গতি আসতে চলেছে। আর তারই অংশ হিসেবে রেলমন্ত্রীর কাছে আমঘাটা-নবদ্বীপ ঘাট রুটে রেল সম্প্রসারণের দাবি জানালেন সাংসদ ও বিধায়ক।

আরও পড়ুনঃ শিয়ালদা ডিভিশনের লালগোলায় নতুন ট্রেন ঘোষণা পূর্ব রেলের, জানুন সময়সূচি

এই রেললাইন চালুর দাবিতে গত প্রায় দু’বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ‘নবদ্বীপ ঘাট রেলস্টেশন বাঁচাও কমিটি’। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারের বেশি রেলপথ সম্প্রসারণের বিষয়ে নিয়ে আওয়াজ তুলে আসছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিজেপি সরকারও। যাইহোক, এখন এই জট কাটতে চলেছে বলে খবর। কমিটি পক্ষ থেকে রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, সাংসদ জগন্নাথ সরকার, বিজেপি বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীর কাছেও আবেদন জানানো হয়। রাণাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার এই প্রকল্প নিয়ে তৎপর হতেই এরপরেই নড়েচড়ে বসে রেলও।

পরিদর্শন সম্পন্ন

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রেলের আধিকারিক থেকে শুরু করে বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত পুরনো রেলপথ পরিদর্শন করেন। পথে যেসব বাড়ি, দোকান বা জমি রেল প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে, সেসব জায়গার বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। স্থানীয়দের মতামত ও সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হয়। এরপর থেকেই মানুষ আশা করছেন শীঘ্রই হয়তো রেলপথের কাজে গতি আসবে। যাইহোক, এখন দেখার কবে এই বিষয়ে জট কাটে।