সৌভিক মুখার্জী, বারুইপুর: বারুইপুরে গণধর্ষণ কাণ্ডে মূল সাক্ষী প্রভাস মন্ডলের এনকাউন্টার (Baruipur Encounter) নিয়ে এবার বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশের রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের উপরই গুলি চালাতে যায় অভিযুক্ত। সেই সময় পুলিশের পাল্টা গুলিতে প্রাণ হারায় প্রভাস। এমনই দাবি ছিল পুলিশের। তবে এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে শিলাদিত্য রক্ষিত। এবার সেই শুনানিতে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, পুলিশকে বিস্তারিত রিপোর্ট হলফনামা আকারে জমা দিতে হবে।
বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের
পুলিশের প্রথম থেকেই দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার জন্য রাতে অভিযুক্তকে ওই ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু আচমকা এক পুলিশ আধিকারিকের রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের উপরেই গুলি চালানোর চেষ্টা করে প্রভাস মন্ডল। পাল্টা পুলিশ অভিযুক্তের উপরে গুলি চালায়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। এমনকি ময়নাতদন্ত করে প্রভাসের শরীর থেকে দুটি গুলিও পাওয়া যায়।
কিন্তু মামলাকারী শিলাদিত্য রক্ষিত কলকাতা হাইকোর্টে এ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে। তাঁর পক্ষ থেকে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে দাবি জানান, বারুইপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ছিল প্রভাস মন্ডল। তাঁকে প্রথমে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কিন্তু ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার জন্য সেখানে তাঁকে কেন রাতের বেলায় নিয়ে যাওয়া হল? এমনকি পুলিশের সঙ্গে কেন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না? যদি পুলিশের নিরাপত্তা ঠিকঠাক থাকত তাহলে অভিযুক্ত কখনোই পুলিশের থেকে রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি করার সাহস পেত না। পুলিশের দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া। ধর্ষণের মূল সাক্ষীকেই পুলিশ হত্যা করেছে তথ্য প্রমাণ লুট করার জন্য।
আরও পড়ুন: ‘২৫ আগস্টের মধ্যে’ NEET মিছিলে সাংবাদিকদের হামলা নিয়ে রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের
যদিও এই বক্তব্যের পাল্টা রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, ঘটনার স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ ইতিমধ্যেই দায়ের করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত চলছে। সিআইডির তত্ত্বাবধানেই চলছে তদন্ত প্রক্রিয়া। কিন্তু দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের বিস্তারিত রিপোর্টের প্রয়োজন রয়েছে। হাইকোর্টে বারুইপুর এনকাউন্টারের ঘটনা পুলিশকে সম্পূর্ণ হলফনামা আকারে রিপোর্ট জমা করতে হবে।










