আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: আসন্ন রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারের তালিকায় নাম ছিল তাঁর। কিন্তু এইবার এই প্রচারকার্য থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (Aam Janata Unnayan Party) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। একই সঙ্গে ভোটের মাঠে প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁর পুত্র তথা দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ রবিনও (Ghulam Nabi Azad Robin)। রবিবার দুপুরে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান হুমায়ুন কবীর। তাঁর বক্তব্য, দলের কর্মীদের একের পর এক গ্রেফতার করা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তিনি প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি বা তাঁর ছেলে প্রচারে বেরোলেই তাঁদের সঙ্গে থাকা কর্মীদের পুলিশ বেছে বেছে গ্রেফতার করছে।
কর্মীদের গ্রেফতারি নিয়ে অভিযোগ
হুমায়ুন কবীরের দাবি, গতকাল রাতে রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ তাঁদের দলের চার জন গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর বক্তব্য, প্রথমে তিনি নিজেই প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ রবিনের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাঁরা প্রচারের ময়দানে থাকবেন না। হুমায়ুন কবীর জানান, এবার থেকে দলের প্রচারের মূল মাধ্যম হবে সমাজমাধ্যম। সেখানে প্রতিদিন দলের বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি ‘টেবিল’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানানো হবে। তাঁর কথায়, মাঠে প্রচার না হলেও প্রচার কার্য থেমে থাকবে না। দলীয় প্রতীক এবং প্রার্থীর কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবে দল।
MCC নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নির্বাচনী আচরণবিধি বা MCC কার্যকর করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। এমনটাই অভিযোগ করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, প্রচারে দলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বেরোনোর পর তাঁদের মধ্যে কয়েক জনকে পরের দিন গ্রেফতার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের কথা মাথায় রেখেই ভোটের প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকেই যথাযথ মনে করছেন তিনি। একই সঙ্গে রাজশক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানোর কথাও বলেন হুমায়ুন কবীর। তবে ভোটের প্রচার বন্ধ হলেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে দলের প্রতীক এবং প্রার্থীর পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: দাম ১৮ কোটি, খেলেছিলেন ১ ম্যাচ, সেই দামি প্লেয়ারকে ছেড়ে দিচ্ছে KKR!
বাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে গোলাম নবী আজাদ রবিনের বক্তব্য, হুমায়ুন কবীর দলের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা তাঁর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অর্থাৎ তিনিও আর সরাসরি ভোট প্রচারে নামবেন না। অন্যদিকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির এই সিদ্ধান্তকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন জানান, হুমায়ুন কবীর কীভাবে নির্বাচনী প্রচার করবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় এবং এ নিয়ে বিজেপির বলার কিছু নেই। ফলে বলাই বাহুল্য রেজিনগর উপনির্বাচনের ঠিক আগে বদলে গেল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রচার প্রক্রিয়া। এখন সরাসরি জনসংযোগের বদলে সমাজমাধ্যমকেই প্রচারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে দল।










