EMI না মেটানোয় গাড়ি তুলে নিয়ে যায় কোম্পানি, ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Published:

Supreme Court

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমান সময়ে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ ইএমআই-র উপর নির্ভর করেন। তবে মাসিক কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে সেই গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা রাখে ফাইন্যান্স কোম্পানি। কিন্তু সেক্ষেত্রে তিনটি বা তার বেশি ইএমআই পরিশোধ না করলেই অ্যাকাউন্টটি এনপিএ হিসেবে ঘোষিত হয় এবং ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি যানবাহনটি বাজেয়াপ্ত করে। সেক্ষেত্রে জোরপূর্বক কি মালিকের কাছ থেকে গাড়িটি কেড়ে নিয়ে যেতে পারে সংস্থা? এমনই এক মামলায় বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ইএমআই মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় গাড়ি তুলে নিয়ে যাওয়ার জেরে ফাইন্যান্স কোম্পানিকে গুনতে হল ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ।

ট্রাক বাজেয়াপ্ত মামলায় বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ থেকে একটি ট্রাক বাজেয়াপ্ত মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। যোগীরাজ্যের এক ব্যক্তি ২০১৯ সালে একটি ট্রাক কেনার জন্য চোলামন্ডলম ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তবে ২০২২ সালে তিনি কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে কোম্পানি নোটিশ জারি করে ওই ট্রাক বাজেয়াপ্ত করে। পরে গ্রাহক এককালীন অর্থ পরিশোধ করে ট্রাকটি ফেরত নেন। কিন্তু পরে আর ইএমআই-র টাকা দেওয়া হয়নি।

তবে ২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল মধ্যরাতে অযোধ্যায় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পর চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পার্ক করা ওই ট্রাকটির স্টিয়ারিংয়ের লক ভেঙে সেটিকে নিয়ে চলে যায় বলেই অভিযোগ মালিকের। সিসিটিভি ফুটেজকে প্রমাণ হিসেবে দেখিয়ে তিনি অযোধ্যার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ট্রাক বাজেয়াপ্ত করার আগে তাঁকে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং সেটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। এমনকি জেলা আদালত ও এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে কোনও প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয় তাঁকে।

আরও পড়ুন: খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামিয়ে দামি তামার তার চুরি দুষ্কৃতীদের, চাঞ্চল্য বাঁকুড়ায়

সম্প্রতি বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ এই মামলার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনি উপায়ে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। শর্ত অনুযায়ী ইএমআই দিতে ব্যর্থ হলে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি গাড়িটি ফেরত নিতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে তারা বল প্রয়োগ করে গাড়িটি গোপনে দখল করে নেবে। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে জানিয়ে দেয়, গ্রাহকের অধিকার লঙ্ঘনের জন্য কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেই অনুযায়ী, ওই ট্রাক মালিককে মোট ১৪.৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে ট্রাক বিক্রি থেকে প্রাপ্ত ৪.৫০ লক্ষ টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১০ লক্ষ টাকা মালিককে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফ থেকে।