অনন্যা সরকার, কলকাতা: শিয়ালদহ স্টেশনে (Sealdah Station) এক যুবকের অদ্ভুত আবদার শুনে তো থ যাত্রীরা। ওই যুবক পদাতিক এক্সপ্রেসের ছাদে উঠে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে স্টেশন চত্বরে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, যুবকটি চিৎকার করে জানান যে, তাঁর গার্লফ্রেন্ড ছেড়ে চলে গেছে, তাঁকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এখানেই শেষ নয়, এরপর ওভারহেড তার ছুঁয়ে ফেলে আত্মহত্যা করার হুমকিও দেন। এই ঘটনায় ভিড় জমে যায় স্টেশনে, এমনকি কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হয়।
প্রেমিকাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ট্রেনের মাথায় যুবক
মঙ্গলবারে শিয়ালদা স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ডাউন পদাতিক এক্সপ্রেস ঢুকতেই এক যুবক গেট থেকে নেমেই সটান ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েন। স্বাভাবিকভাবেই এমন দৃশ্যে চমকে ওঠেন অন্য যাত্রীরা। তারা ভয়ে চিৎকার করে যুবককে সেখান থেকে নামতে অনুরোধ করেন। আর বছর তিরিশের ওই যুবকও পাল্টা ভয় দেখাতে থাকেন যাত্রীদের। তাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলতে থাকেন তার প্রেমিকার তাঁকে ছেড়ে চলে গেছে, তাঁর তাঁকে চাই। না ফিরিয়ে আনলে তিনি বিদ্যুতের তার ছুঁয়ে ফেলবেন বলেও ভয় দেখান। তিনি বলেন, গার্লফ্রেন্ড ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাঁর বন্ধুরা তাঁকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে, তাই তিনি মরে যেতে চান।
একদিকে এমন দাবি, অন্যদিকে মাথার সামান্য উপরেই হাই ভোল্টেজের ওভারহেড তার, যা সামান্য সময়ের জন্য স্পর্শ করলেই দেহে প্রাণ থাকার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। এমন কান্ড দেখে তো যাত্রীদের হতবুদ্ধি দশা। স্টেশনে তখন ভিড় জমেছে, ছোটাছুটি লেগে গেছে। রেলের আধিকারিকরাও ততক্ষণে এসে পড়েছেন ঘটনাস্থলে। এরপর আরপিএফ (RPF)-এর জওয়ানরা গিয়ে যুবকটিকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন।
কিন্তু নাছোড়বান্দা ব্যর্থ প্রেমিক কোনো কথা শুনতেই নারাজ। তিনি কাঁধে ব্যাগ তুলে নিয়ে বারবার বলতে থাকেন তিনি কারও কথা শুনবেন না, তার বন্ধুদেরও চাই, আবার গার্লফ্রেন্ডকেও চাই। তারপর অগত্যা ট্রেনের দুদিক থেকে উঠে যুবককে ধরার চেষ্টা করেন আরপিএফ জওয়ানরা। আর যুবকও নিজের প্রাণনাশের ভয় দেখাতে থাকে। এরকম চলে প্রায় মিনিট ১৫। এরপর কোনোরকমে এক জওয়ান তাকে বাগে পান এবং ধরে নীচে নামিয়ে আনেন।
আরও পড়ুনঃ কলকাতা থেকে দিল্লি, মুম্বাই, পুরী! চালু হল বিলাসবহুল বাস পরিষেবা, জানুন ভাড়া
ওই যুবকের ব্যাগ থেকে পাওয়া পরিচয়পত্র থেকে জানা যায় তিনি অসমের বাসিন্দা, তবে কলকাতায় তাঁর আত্মীয়রা থাকেন। রেলের তরফে তাঁদের তলব করে আনা হয়। পরিবারের লোকেরা জানান, ছেলেটির মানসিক অবস্থা বর্তমানে ভালো নেই। রেলের চিকিৎসককে দেখানোর পর ওই যুবককে এনআরএস (NRS) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।










