লক্ষ্মীর ভান্ডার নয়, সুরক্ষা চাই! ঘাটালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে শতাধিক মহিলা

Published:

Ghatal
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা মাস, তারপরেই বঙ্গ জুড়ে শুরু হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন। তাইতো ভোট প্রচারের তাগিদে বঙ্গ বিজেপি যেখানে পরিবর্তন সংকল্প সভার আয়োজন করছে জেলায় জেলায় সেখানে কম যাচ্ছে না শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁরাও জানুয়ারি মাস ব্যাপী গোটা রাজ্যজুড়ে ‘আবার জিতবে বাংলা’ নামে কর্মসূচি শুরু করেছে। এমন অবস্থায় ঘাটালে (Ghatal) ঘটল এক অবাক কাণ্ড। অভিনেতা-সাংসদ দেবের নির্বাচনী কেন্দ্রে তৃণমূলের শতাধিক মহিলা কর্মী শাসক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করল।

নবাগতদের দেওয়া হল দলীয় পতাকা

রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার ঘাটাল সদরের বিজেপি দলীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও ব্লকের একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব। আর ওই অনুষ্ঠানে ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত অজবনগর ২, মোহনপুর এবং মনসুকা ২ সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে শতাধিক মহিলা কর্মী এদিন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপিতে যোগদানকারী মহিলারা জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডার নয়, মেয়েদের সুরক্ষা চাই। নবাগত কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেন বিধায়ক শীতল কপাট। আর তখনই চারিদিক থেকে উঠে আসে হাততালির রব।

কী বলছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা?

নির্বাচনের আগে মহিলাদের এই দল বদলের ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শাসকদলের লাগাতার দুর্নীতি দেখে হতাশা থেকেই মানুষ দলে দলে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে। মোহভঙ্গ হচ্ছে সকলের। যদিও তৃণমূলের এই ঘটনায় কিছুই যায় আসছে না। ঘাটালের তৃণমূল নেতা বিকাশ কর জানিয়েছেন, “বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, বিজেপির এই ধরণের নাটক আরও বাড়বে। সত্যি বলতে তৃণমূল ছেড়ে কেউ যায়নি, যারা গেছে তারা আদতে তৃণমূল কর্মীই নয়। ঘাটালের জনগণ তৃণমূলের সঙ্গে ছিল, আছে এবং আগামীতেও থাকবে।”

আরও পড়ুন: ED-র পর সন্দেশখালিতে আক্রান্ত পুলিশ! গাড়িতে ভাঙচুর, আটক ৯ জন

প্রসঙ্গত, নতুন বছর পড়তে না পড়তেই বিধানসভা নির্বাচনকে টার্গেট করে এখন থেকেই প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে শাসক শিবির। সেইসঙ্গে প্রচারে মনোযোগ দিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। এমতাবস্থায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের এই দলবদল রাজনৈতিক সমীকরণে যে প্রভাব ফেলতে পারে সেই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছে রাজনৈতিক সমালোচকরা। তার কারণ দলবদলের কর্মীদের মধ্যে বেশিরভাগ মহিলা কর্মী, তাই এই যোগদান মহিলা ভোটব্যাঙ্কে বড় ছাপ ফেলতে পারে।