সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাচ্ছে দেউলিয়া হতে চলা সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তান (Pakistan)? হ্যাঁ, এবার দেশটির কাছে জ্যাকপট হয়ে আসতে পারে বিরাট সোনার ভাণ্ডার (Gold Reserve in Pakistan)। জানা যাচ্ছে, আত্তক জেলার মাটির তলায় লুকিয়ে রয়েছে এক বিপুল স্বর্ণভাণ্ডার। কিন্তু হ্যাঁ, বাস্তব চিত্রটা উল্টো। কারণ, পাঞ্জাব প্রদেশের সিন্ধু নদের তীরে এই সোনার খনি আবিষ্কারের পর থেকেই সেখানকার স্থানীয় জমির মালিক ও কৃষকদের উপর সরকারি কোপ ফেলেছে সরকার। প্রাপ্য অর্থ দেওয়ার বদলে উল্টে তাদের বিরুদ্ধেই জামিন অযোগ্য মামলা দায়ের করেছে শেহবাজ শরীফ সরকার।
বিধানসভায় স্বর্ণভাণ্ডার নিয়ে তুলকালাম
প্রসঙ্গত, গত সোমবার অর্থাৎ ২০ এপ্রিল পাঞ্জাব বিধানসভায় এই ইস্যুতে শাসক এবং বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। খনি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী শের আলি গরচানি ঘোষণা করেন, আত্তকের এই সোনা পাঞ্জাবের জনগণেরই সম্পদ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গেই তার নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন পিটিআই নেতা কাজী আহমেদ আকবর অভিযোগ করেন যে ,আত্তকে যে সমস্ত কৃষক ও জমির মালিকরা নিজেদের জমিতে খনন কাজের অনুমতি দিয়েছিলেন, সরকার এখন তাঁদেরকেই অপরাধী সাজাচ্ছে। আর তাঁদের কন্ঠরোধ করতেই একের পর এক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঞ্জাব সরকার একাধিক জমির মালিকের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। তবে জমির মালিকদের দাবি সরকার তাঁদের প্রাপ্য টাকা দিতে চাইছে না এবং বড় বড় খনি লিজ গ্রহীতাদের সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই সাধারণ মানুষকে আইনি গ্যাঁড়াকলে ফাঁসানো হচ্ছে। সবথেকে বড় ব্যপার, আলি গরচানি পাল্টা জবাবে একে জনগণের অধিকার চুরি রক্ষা বলেই দাবি করছেন।
অন্যদিকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সরকারকে আক্রমণ করে বিরোধী সদস্য মিয়া আসিফ আলী বাপ্পা ব্যাঙ্গ করে বলেন, মরিয়ম নওয়াজ ছাড়া আর কারোর চুরি করার কোনও অধিকার নেই। পাল্টা মন্ত্রী গরচানি দাবি করেন, খনি বিভাগ ইতিমধ্যেই সরকারের জন্য কয়েক বিলিয়ন ফান্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছে যেগুলি উন্নয়নের কাজে ব্যয় হবে।
আরও পড়ুন: ২০০৮-র পর জন্ম হলে কেনা যাবে না তামাকজাত দ্রব্য! নয়া আইন দেশে
তাহলে মাটির নিচে এই সম্পদ কার?
এবার আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী মাটির নিচে জল ছাড়া অন্য যে কোনও খনিজ সম্পদ নিশ্চয়ই রাষ্ট্রের সম্পত্তি। তবে আত্তক জেলায় গত ৪০ বছর ধরে অবৈধ খনন এবং সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অর্থ ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ পুরনো। এমনকি এবার খোদ সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উপর দমনপীড়ন চালিয়ে খনিজ সম্পদ দখলের চেষ্টায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এখন দেখার এই সম্পদ আদৌ উত্তোলন সম্ভব হয় কিনা।










