প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আজকাল অনেকেই বাড়িতে পোষ্য রাখেন। সারা দিন বাইরে কাজ করে রাতে বাড়িতে ঢুকে যখন দেখেন, প্রিয় পোষ্যটি দরজার সামনে লেজ নাড়ছে, মন ভাল হয়ে যায়। এককথায় পোষ্য, বহু পরিবারেই হয়ে ওঠে বাড়ির সদস্য। কুকুরের পাশাপাশি বিড়ালকেও (Cats) অনেকে পোষ্য হিসেবে রাখে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় হঠাৎ করে বিড়াল রেগে গিয়ে বাড়ির সদস্যদের হাতে পায়ে আঁচড়ে দেয়। ছুটতে হয় হাসপাতালে। কিন্তু তাতে খানিক দেরি হয়ে যায়, তাই সেই সময় সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন (Prevention Tips After Cat Bites) সবটাই জেনে নিন বিস্তারিত।
বিড়ালের ভয়ংকর আঁচড়
বিড়াল শুধু বাড়িতে থাকলেই হয় না, তার আচরণ, রোগ-লক্ষণগুলিও অভিভাবকে বুঝতে হয়। জানা না থাকলে ছোটখাটো উপসর্গ অভিভাবকের নজর এড়িয়ে যেতে পারে। সাধারণ বলে এড়িয়ে গেলে, তা থেকেই সমস্যা হতে পারে। বিড়ালের বেশ ধারালো নখ থাকে, আদরের ছলে বা রাগের বসে অনেক আঁচড় খেতে হয় মালিকদের। কিন্তু সেটি একদমই শরীরের পক্ষে ভালো নয়। এর জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়।
কী কী করতে হবে?
১. বিড়াল যদি আঁচড় দেয় এবং সেই ক্ষতস্থান থেকে যদি রক্ত না বের হয় তাহলে সামান্য অ্যান্টিসেপটিক মলম শুধুমাত্র ওই জায়গাটাতে দিয়ে দিলেই নিশ্চিন্তে থাকা যায় কিন্তু যদি সেই ক্ষতস্থান থেকে ধীরে ধীরে রক্ত বের হতে থাকে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সাবান জল দিয়ে ক্ষতস্থান ভালো করে ধুয়ে নিতে হয়। আসলে অনেক সময় অ্যান্টিসেপটিক নখের ক্ষতিকর জীবাণুকে ধ্বংস করতে পারে না কিন্তু সাবান জল এক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী।
২. বিড়াল যেই জায়গায় আঁচড়ায় সেখানে তরল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা বেশ জরুরি। সেক্ষেত্রে ডেটল, স্যাভলন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
৩. ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হওয়া বন্ধ হলে সঙ্গে সঙ্গে কখনোই ব্যান্ড এইড ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ সেখানে হাওয়া বাতাস বন্ধ হয়ে গেলে টিটেনাসের জীবাণু বাসা বাঁধে। কিন্তু ক্ষতস্থান যদি ব্যথা এবং ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় বা ওই স্থান থেকে ক্রমাগত বিরামহীনভাবে রক্ত চুঁইয়ে পড়ে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: আচমকা বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট? জরুরি পরিস্থিতিতে এই টিপস জানলে বাঁচতে পারে প্রাণ
৪. বিড়ালের আঁচড় দিলে কদিনের মধ্যেই কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে অনেকের, একে ‘ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ’ বলে। তাই সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ মত ওষুধ খাওয়া খুব জরুরি। কারণ এই সময় প্রচন্ড পরিমানে গা হাত-পা ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি মাথা খুবই যন্ত্রণা করে।










