সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বেসরকারি ক্ষেত্রে আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের (IDFC First Bank) চন্ডিগড় শাখায় এবার ৫৯০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাঙ্কিং মহলে পড়ে গিয়েছে তোলপাড়। এর জেরে শেয়ারবাজারেও লেগেছে বিরাট ধাক্কা। একধাক্কায় মূলধন তলানিতে ঠেকেছে ব্যাঙ্কের। ফলে বিনিয়োগকারীরা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি নজর এনেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু কোন খাতে এতটা জালিয়াতি হল?
কীভাবে ঘটল জালিয়াতি?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি চন্ডিগড়ের একটি শাখায় ঘটেছে। সেখানে হরিয়ানা সরকারের সঙ্গে যুক্ত কিছু অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হত। ১৮ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলি নিজেদের অ্যাকাউন্টেই অস্বাভাবিক লেনদেন আর ব্যালেন্সে গড়মিল লক্ষ্য করে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, শাখার কয়েকজন কর্মী বহিরাগতদের সঙ্গেই যোগসূত্র ঘটিয়ে জাল অনুমোদনপত্র ব্যবহার করে ম্যানুয়ালি অর্থ স্থানান্তর করেছিল। সেই সূত্রে ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই চারজন সন্দেহভাজন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করেছে এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। পাশাপাশি স্বাধীন ফরেনসিক অডিটের জন্য কেপিএমসিকে-ও নিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার পর হরিয়ানা সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে প্যানেল থেকে বাদ দিয়েছে আর বিভিন্ন দফতরকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নির্দেশও দিয়েছে।
এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শেয়ারবাজারে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। এক দিনেই ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ তলানিতে ঠেকে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবথেকে বড় পতন। আর এর ফলে ব্যাঙ্কের বাজার মূলধন এক ধাক্কায় ১৪,৪৩৮ কোটি টাকা কমে যায়। উল্লেখ্য, জালিয়াতির পরিমাণ ব্যাঙ্কের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের মুনাফার থেকেও বেশি। কারণ, সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের নিট মুনাফা ছিল প্রায় ৫০৩ কোটি টাকা। কিন্তু এবার জালিয়াতি হয়েছে ৫৯০ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: SIR-এ এখনও বাকি প্রায় ৬০ লক্ষ অভিযোগের নিষ্পত্তি
এ বিষয়ে ব্যাঙ্কের এমডি ও সিইও ভি. বিদ্যানাথন জানিয়েছেন, এটি কোনও সিস্টেমেটিক ত্রুটি নয়, বরং নির্দিষ্ট শাখা এবং নির্দিষ্ট গ্রাহক গোষ্ঠীকে ঘিরেই সীমিত ঘটনা। তাঁর বক্তব্য, ব্যাঙ্কে চেক ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থায় মেকার চেকার অথরাইজার সহ একাধিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কর্মীদের অপরাধমূলক যোগসূত্রের কারণেই এই নিয়মভঙ্গ ঘটছে। পাশাপাশি তিনি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ব্যাঙ্কের মূল্যায়ন অবস্থান মজবুত আর ৫৯০ কোটি টাকার আর্থিক প্রভাব সামাল দেওয়া সম্ভব। আর সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলোতে অবশিষ্ট অর্থ আটকে রাখার জন্য অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।












