সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশী রোহিঙ্গাদের জালিয়াতির মাধ্যমে আধার কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে, এই অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছিল (Supreme Court on Aadhaar Card)। তবে দেশের শীর্ষ আদালতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত আর নীতিগত সংশোধনের বিষয় আদালত নয়, বরং কেন্দ্র সরকারের কাছে তোলা উচিত। মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেছে আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। আর উক্ত বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপিন পাঞ্চোলি।
মামলার প্রেক্ষাপট
রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একটি মামলার শুনানির সময় আধার কার্ড ব্যবহারের প্রসঙ্গে উঠেছিল। সেই সময় আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় যিনি বিজেপির সঙ্গেও যুক্ত, তিনি আদালতের কাছে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, পশ্চিমবঙ্গে রোহিঙ্গাদের নামে আধার কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। এমনকি রেশন কার্ডও বানিয়ে ফেলা হচ্ছে।
তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এদিন বলেন, যদি সত্যিই ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি আইনগতভাবে নিয়ন্ত্রণের বিষয়। আর এক্ষেত্রে আবেদনকারী কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবে এবং প্রয়োজনে আইন সংশোধনের দাবিও তুলতে পারবে। যার মধ্যে রিপ্রেজেন্টেশান অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট ১৯৫০ এর পরিবর্তনের প্রস্তাবও থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, আধার মূলত পরিচয়ের প্রমাণপত্র হিসাবে চালু করা হয়েছিল। আধার কার্ডের ভিত্তিতে কোনও ভাবে নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রশ্ন ওঠে না। এমনকি বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, বিষয়টি গভীর তদন্তসাপেক্ষ আর আদালত এই ধরনের অনুসন্ধানের জন্য উপযুক্ত জায়গা নয়।
আরও পড়ুন: প্রধান বিচারপতি কড়া হতেই ঝুঁকল Whatsapp, ব্যবহারকারীদের স্বার্থে মানল বড় শর্ত
এদিকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, বিহারের সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে আধার কার্ডকে পরিচয়ের প্রমাণপত্র হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। সেই সময় আদালত জানিয়েছিল, জনগণনা আইন অনুযায়ী আধার পরিচয় প্রমাণের জন্য স্বীকৃত নথিগুলির মধ্যে অন্যতম একটি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ চাইলে অন্যান্য নথির মতোই আধারের সত্যতা যাচাই করতে পারবে।












