প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মাঝেই বড় বিতর্ক শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের! অবিলম্বে উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকে সেমিস্টার (Semester System In HS Exam) প্রত্যাহারের দাবি তুলল এই মঞ্চ। চিঠি পাঠানো হল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে। এবারের উচ্চ-মাধ্যমিক বাকি বছরগুলির তুলনায় আলাদা কারণ এটি চতুর্থ সেমিস্টার, থাকছে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন। এমতাবস্থায় কিছুদিন আগে সিলেবাস শেষ না হওয়ার আগেই পরীক্ষা শুরু হওয়া নিয়ে একাংশের মধ্যে বিস্তর ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, আর সেই একই অভিযোগ তুলে ধরল শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ।
সেমিস্টার প্রত্যাহারের দাবি শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের
গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, যা শেষ হবে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি। চলতি বছর এই পরীক্ষা অন্যবারের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন, কারণ ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে চালু হয়েছে সেমিস্টার পদ্ধতি। আর এই, নতুন সেমিস্টার ব্যবস্থায় এই প্রথম এত বড় পরিসরে পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিকভাবেই সাংসদদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ এটি। তবে পরীক্ষা চলতে চলতে এবার বড় দাবি তুলল পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক সংগঠন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ। অবিলম্বে উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকে সেমিস্টার প্রত্যাহারের দাবি তুলে চিঠি লিখলেন তাঁরা।
বাড়ছে অভিভাবকদের উপর আর্থিক বোঝা
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক সংগঠন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষার্থীরা পড়ার পর্যাপ্ত সময়ই পান না। এমনকি দেরিতে এসেছে বই। সবমিলিয়ে পরীক্ষার জন্য সঠিক প্রস্তুতির সময় মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানিয়েছেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সম্প্রতি সেমিস্টার পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের সঞ্চার হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্রমশ অধিক মাত্রায় টিউশন নির্ভর হয়ে পড়ছে ফলে অভিভাবকদের উপর আর্থিক বোঝা বাড়ছে।’
আরও পড়ুন: সজনে ডাটা পিষিয়ে দেওয়ায় বাঁকুড়ায় নাবালককে বেধড়ক মারধর তৃণমূল কর্মীর
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের অভিযোগ, সেমেস্টার পদ্ধতির ফলে রাজ্যে বেসরকারিকরণের প্রবণতা আরও উৎসাহিত হচ্ছে, যা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছে। তাই তারা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে চালু হওয়া সেমিস্টার পদ্ধতি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সেমিস্টার প্রথার বিকল্প হিসেবে কীভাবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা চলবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করা হোক। এবং প্রতিটি বিষয়ের সিলেবাস, সাহিত্যের পাঠ্য সংকলন, প্রশ্নপত্র, নম্বর বিভাজন ইত্যাদির দিকেও নজর দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠছে। যদিও সেই চিঠির তরফে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি সাংসদ।












