আমফানে ২৫০ কোটি টাকার ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের FIR

Published:

Abhishek Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমশ বিপদ বাড়ছে অভিষেকের (Abhishek Banerjee)! এবার সই জাল কাণ্ডের পরে আমফান ত্রাণের ২৫০ কোটি টাকা চুরির (Amphan Relief Scam) অভিযোগ উঠল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিষ্ণুপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন সেখানকার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। জেলা পুলিশ কমিশনারের কাছে SIT গঠন করে তদন্তের আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। এমনকি ডায়মন্ড হারবারের প্রতিটি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বিজেপি নেতা

ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগ অভিষেকের বিরুদ্ধে

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আজ অর্থাৎ শনিবার বিষ্ণুপুর থানায় তৃণমূল কংগ্রেসের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ২৫০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগে FIR দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের আমফান পরবর্তী ত্রাণে DBT-র মাধ্যমে বাড়ি তৈরির জন্য ২০ হাজার টাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতের জন্য ৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, পোর্টালে একাধিক পাকাবাড়িকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে দেখিয়ে টাকা ছাড়া হয়েছে। এমনকি একই ছাদের তলায় একাধিক ব্যক্তিকে আলাদা আলাদা করে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং উঠছে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও।

তদন্তের জন্য SIT গঠনের আর্জি

ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির দাবি, বিষ্ণুপুর ১ ব্লকে আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতির জন্য ২৫ কোটি ৮০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। ঘরের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার। অথচ কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে ৩৪ হাজার ঘর। এবং বিষ্ণুপুর ২ ব্লকে ৩২ কোটি ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, একই ফোন নম্বরে ৬ থেকে ৭ জনের। একই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে ৭-৮ জনের। এমনকি একই পরিবারে ১১-১২ জন করে এই টাকা পেয়েছেন। তাই এই দুর্নীতির মূল কাণ্ডারিকে ধরতে সিট গঠন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা।

আরও পড়ুন: ছুটির সামান্য আগে স্কুলে আসেন গুণধর প্রধান শিক্ষক! খুঁটিতে বেঁধে শাস্তি দিল অভিভাবকরা

শুধু বিষ্ণুপুর থানাতেই নয়, আগামী দিনে ডায়মন্ড হারবার এলাকার প্রতিটি থানায় একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। এদিকে, অভিষেকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলার রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলা থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রচারে উসকানিমূলক মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় চাপে রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি CID দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জেরা করেছেন এমনকি আগামীকাল, রবিবার আবারও হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার এই ত্রাণ দুর্নীতি মামলার জল কতদূর এগোয়।