প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ‘টেট’ পাশ না–করা প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক–শিক্ষিকার তালিকা চেয়ে পাঠানোয় বেশ সমস্যায় পড়েছিল রাজ্য সরকার। এর আগে রাজ্য ১৯৯৮ থেকে ২০১৬–র আগে পর্যন্ত স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত একটাই নিয়োগ পরীক্ষার চল ছিল। ফলে পঞ্চম বা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এসএসসি–র মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষক–শিক্ষিকার সংখ্যা আলাদা করে হিসেব করা অসম্ভব। এই অবস্থায় নয়া উপায় (Education Department Guidelines) বার করল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। যার ফলে আপাতত স্বস্তি লাভ করল পশ্চিমবঙ্গের কর্মরত শিক্ষকরা।
‘টেট’ পাশ নিয়ে কড়াকড়ি সুপ্রিম কোর্টের
গত বছর সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল কর্মরত শিক্ষক, যাঁরা টেট উত্তীর্ণ নন, তাঁদের টেট দিতেই হবে। কারণ শিক্ষার অধিকার আইন, আরটিই ২০০৯ এবং এনসিটিই-র ২০১০ নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাস করা ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। তাই গত ৩১ ডিসেম্বর, সব রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরকে চিঠি পাঠিয়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্কুলশিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের যুগ্মসচিব প্রাচী পাণ্ডে। তিনি জানতে চেয়েছেন, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশানুযায়ী ঠিক কতজন শিক্ষক–শিক্ষিকা সমস্যায় পড়ছেন। আর তাতেই আতান্তরে পড়েছিলেন সরকার পোষিত ‘নরমাল সেকশন’-এর শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
বড় পদক্ষেপ নিল স্কুল শিক্ষা দপ্তর
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ইতিমধ্যে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ (ডিপিএসসি) ও বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (ডিআই–প্রাথমিক) কাছ থেকে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির টেট পাশ না–করা শিক্ষক–শিক্ষিকার তালিকা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক–শিক্ষিকা নিয়ে। তাঁদের নিয়ে কোনও তালিকাই তৈরি করা যাচ্ছে না। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গের কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বড় পদক্ষেপ নিল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬-র আগে নিযুক্ত সব শিক্ষকেই ‘নরমাল সেকশন’-এর শিক্ষক হিসাবে দেখানো হবে। এমনকি তাঁদের আর আলাদা করে দিতে হবে না টেট পরীক্ষা।
আরও পড়ুনঃ SIR আতঙ্কে মৃত্যু, ৬১ পরিবারকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা নবান্নর
পদমর্যাদায় কোনও পরিবর্তন হবে না শিক্ষকদের
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১৬-র আগে নিযুক্ত সব শিক্ষকেই অন্য কোনও সেকশন বা পদমর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করা হবে না। অর্থাৎ ২০১৬ সালের পর যে সকল শিক্ষক উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ওই সেকশন বা পদমর্যাদায় কোনও পরিবর্তন হবে না। তাঁদেরকে উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক হিসাবেই দেখাতে হবে। এ ছাড়া উচ্চ প্রাথমিকে শারীরিক শিক্ষা ও কর্মশিক্ষা বিষয়ে যাঁরা নিযুক্ত হয়েছেন, তাঁদেরকেও সেই পদে রাখতে হবে। এত দিন পর্যন্ত ‘নরমাল সেকশন’-এর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের IOSMS পোর্টালে উচ্চ প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি সেকশন এই দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। এখন আর এই নির্দেশের পর সেই নিয়ম থাকছে না।
আরও পড়ুন: গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি করেই চলত পেট, রিঙ্কু সিংয়ের বাবার অতীত চোখ ভেজাবে!
নয়া সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “শিক্ষা দফতরের এই নির্দেশিকা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ নরমাল সেকশনের শিক্ষক-শিক্ষিকা যারা ছিলেন তাদের উচ্চ প্রাথমিক দেখানোর ফলে তাঁরা আশঙ্কায় ছিলেন তাঁদের টেট দিতে হবে। এই নির্দেশের ফলে তাঁরা যেমন স্বস্তি পাবেন। তেমনই সরকারের সারপ্লাস ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।”












