সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সাল, সময়টা কম নয়। আর এই কয়েক বছরে সরকারি কর্মীদের ডিএ (Dearness allowance) বকেয়া টাকা না মেলায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় বকেয়া টাকা নিয়ে ট্রাইব্যুনাল, উচ্চ আদালত এবং সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে জয় পেয়েছেন সরকারি কর্মীরা। চলতি মার্চ মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারকে সকল বকেয়া DA মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে এই বিষয়ে সরকারের কোনও হেলদোল না থাকার ক্রমেই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছেন কর্মীরা। এসবের মধ্যেই ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল অবধি কী কী অর্ডার দেওয়া হয়েছিল তা সবটা তুলে ধরলেন ডিএ মামলাকারী মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee)।
২০০৮-২০২০ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন মলয় মুখোপাধ্যায়
এক ফেসবুক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এই বকেয়া প্রসঙ্গে উচ্চ আদালত হলফনামা চায় সরকারের কাছে। রাজ্য সরকারের ডিএ অর্ডার অনুযায়ী আজ পর্যন্ত কত শতাংশ ডিএ দেওয়া হল এবং কেন্দ্রীয় সরকার তথা এই দিল্লি, চেন্নাইতে কর্মরত তাঁরা কত পরিমাণে ডিএ পাচ্ছেন সেটার তালিকা চাওয়া হয়। এই তালিকা আমাদের কাছে আছে। অন্যদিকে সরকারকেও দিতে হচ্ছে।’ ভিডিও বার্তায় মলয়বাবু তুলে ধরেন, ২০০৯ সালে রোপা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকার কত ডিএ দিচ্ছিল এবং এআইসিপিআই সূচক মেনে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে অন্যান্য রাজ্য সরকার কত শতাংশ টাকা দিচ্ছিল সেটার তথ্য।
আরও পড়ুনঃ মার্চেই হাঁসফাঁস পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গে? ৪ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ, শিলাবৃষ্টি! আজকের আবহাওয়া
মলয়বাবু জানান, ‘সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মিটিয়ে দিতে হবে। প্রথমে ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে এবং পরবর্তীটা কিস্তিতে মেটাতে হবে। সরকারের কাছে টাকা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা বলেছিল ২৫ শতাংশ টাকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দেবে। কিন্তু কিছুই কাজের কাজ করেনি। যে কারণে আমরা সরকারকে আদালত অবমাননার নোটিশ দিয়েছিলাম। এরপর গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের অর্থসচিব এবং মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে অবমাননার পিটিশন ফাইল হয়ে গিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত নিশ্চয়ই ৫ মার্চ অবধি দেখবে তারপর মামলার শুনানির তারিখ বলবে।’
এই দিনের মধ্যে DA দিতেই হবে, আমরা ছেড়ে দেব নাঃ মলয় মুখোপাধ্যায়
মলয়বাবুর ফের হুঁশিয়ারি, ‘আমরা ছেড়ে দেব না। তবে হঠাৎ করে যদি ২৫ শতাংশের অর্ডার বেরিয়ে যায়, বেরোবেই, ডিএ দিতে হবেই। ডিএটা যদি না দেয় ২৫ শতাংশ সঙ্গে প্রথম কিস্তি ৫০ শতাংশ ডিএ ৩১ মার্চের মধ্যে বা বিধানসভা ভোটের আগে দিয়ে যেতে হবে। আর ডিএ দেওয়াটাই সরকারের পক্ষে লাভ।’












