ERO, AERO-র বদান্যতায় বিচারাধীন বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম, জানিয়ে দিল কমিশন

Published:

Richa Ghosh
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জন। সেখানে প্রথম দফার আপাতত বাদ গিয়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। আর বিচারাধীন রয়েছে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম। আর সেই তালিকায় এবার নাম উঠে এল ক্রিকেটার রিচা ঘোষের (Richa Ghosh), যিনি কিনা বিশ্বকাপ জিতিয়ে দেশকে গর্বিত করেছেন। স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে তাঁর নাম অমীমাংসিতের তালিকায় রাখা। আর সেই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতেই জবাব দিলেন নির্বাচন কমিশন।

অমীমাংসিতের তালিকায় রিচা ঘোষের নাম

রিপোর্ট মোতাবেক শিলিগুড়ির কলেজপাড়ার ৩০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিচা ঘোষ। বরাবর ওই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা তিনি। সেখানেই রিচা ভোট দেন। কিন্তু SIR এর চূড়ান্ত তালিকায় এবার রিচা ঘোষের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনের স্ট্যাম্প। শুধু রিচা নয়, তাঁর দিদি সোমাশ্রীর নামও অ্যাপ্রুভড তালিকায় নেই। এমনই দাবি করেছেন রিচার বাবা। যে ক্রিকেটার দেশের হয়ে খেলেছেন, যে ক্রিকেটার ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন, কাপ জিতিয়েছেন দেশকে, সেই রিচা ঘোষের নাম কীভাবে অমীমাংসিতের তালিকায় থাকতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, তা হলে তো ভারতের বিশ্বকাপটাই বিচারাধীন। এরপরই মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের সাফাই

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকের অনতিবিলম্বে সমাজমাধ্যমে রিচাকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে “ SIR এর খসড়া তালিকায় প্রথমে তাঁকে ‘আনম্যাপ্‌ড’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই সময় তাঁর পরিবর্তে এক আত্মীয় শুনানিতে উপস্থিত হন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার অর্থাৎ ERO বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার AERO বিষয়টি নিষ্পত্তি করেননি। তাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিষয়টি বিচারকদের কাছে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়েছে।” অর্থাৎ এই ঘটনায় ERO কিংবা AERO-কেই পরোক্ষেভাবে দায়ী করা হয়েছে কমিশনের তরফে।

আরও পড়ুন: SIR মামলা শুনছেন যিনি, ভোটার লিস্টে সেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নামেই বিরাট ভুল

প্রসঙ্গত, ভোটার লিস্টে যোগ্য তালিকায় মেয়ের নাম না ওঠে বেশ চিন্তিত রিচা ঘোষের বাবা মায়ের। এদিকে ২০০২-এর তালিকায় রিচার বাবা-মা দুজনেরই নাম রয়েছে। তাহলে কেন রিচার নাম অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে, তা বুঝতে পারছেন না রিচার বাবা-মা। যদিও বলে রাখা প্রয়োজন, অমীমাংসিতের তালিকায় নাম থাকলেই যে তাঁর নাম বাদ হয়ে যাবে, তা একেবারেই নয়। অমীমাংসিত তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা এখনও বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আর তাঁদের নথি খতিয়ে দেখছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। নথি যাচাইয়ের পর সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হবে।