“ফের পরীক্ষা দেওয়ার মতো মানসিক জোর নেই” উদ্ধার NEET পরীক্ষার্থীর সুইসাইড নোট

Published:

Akansha Chaturvedi

অনন্যা সরকার, নাগপুর: সফল ডাক্তার হয়ে পরিবারকে দারিদ্র থেকে বের করে আনার স্বপ্ন এক লহমায় শেষ। নিট (NEET Exam) অ্যাস্পিরেন্ট আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদির (Akanksha Chaturvedi) অকাল মৃত্যুতে মধ্যপ্রদেশের মৌ গঞ্জের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ১৮ বছর বয়সী আকাঙ্ক্ষাকে গত ২০ মে নাগপুরে তার কোচিং ইনস্টিটিউটের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিছুদিন পরে একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পরিবার, যেখানে ব্যক্ত করা রয়েছে কি প্রচন্ড মানসিক বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছিলেন আকাঙ্ক্ষা। 

সুইসাইড নোটে কী লিখেছিলেন আকাঙ্ক্ষা?

হাতে লেখা সেই চিঠিতে আকাঙ্ক্ষা তার মা-বাবার উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, ‘মা-বাবা তোমরা আমার উপর অনেক ভরসা রেখেছিলে যে আমি খুব ভালো করে পড়াশোনা করে ডাক্তার হবো। কিন্তু আবার নিট পরীক্ষা দেওয়ার মতো মানসিক জোর আমি খুঁজে পাচ্ছি না। আমি প্রথম অ্যাটেম্পটে ভালো স্কোর করেছিলাম কিন্তু পরবর্তীতেও যে এক ফল হবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই। আমায় ক্ষমা করো তোমরা, আমি সবকিছু নষ্ট করে ফেলেছি।”

আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদির বাবা কৃষ্ণ কুমার চতুর্বেদী মৌগঞ্জ জেলার মাঙ্গানিয়া গ্রামের এক ক্ষুদ্র কৃষক হওয়া সত্ত্বেও মেয়েকে ডাক্তার বানানোর জন্য বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি নিতেও পিছপা হননি। সামান্য জমিতে কাজ করার পাশাপাশি মেয়ের কোচিংয়ের খরচ এবং সংসার চালানোর জন্য তিনি নাগপুরে রাঁধুনির কাজও করতেন। ডাক্তারি পড়ানোর বিপুল খরচ সামলাতে কিষান ক্রেডিট কার্ড থেকে তিন লক্ষ টাকা এবং আত্মীয়দের কাছ থেকেও কিছু টাকা ধার করেছিলেন কৃষ্ণ কুমার। 

আকাঙ্ক্ষার কাকা জগদীশ প্রসাদ চতুর্বেদী জানান, পরীক্ষা দেওয়ার পর আকাঙ্ক্ষা খুবই খুশি হয়ে বাড়ি ফিরেছিল। সে আশা করছিল প্রায় ৬৫০ নম্বর সে পাবে। কিন্তু তারপরেই নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবরটি সামনে আসে, যা একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছিল আকাঙ্ক্ষাকে। সে কথাবার্তা বলা এমনকি খাওয়া দাওয়াও প্রায় বন্ধ করে দেয়। কিন্তু পরিবারের কেউই এরকম মর্মান্তিক পরিণতি আশা করেননি। 

আরও পড়ুনঃ পরশুরাম, পরিণীতা আউট! সেরার সেরা এই মেগা, এ সপ্তাহের টিআরপি তালিকা

সম্প্রতি নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস একাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে চরম মানসিক হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যা প্রায়ই খবরের শিরোনামে উঠে আসছে। আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদীও স্বপ্ন দেখেছিল বড় ডাক্তার হওয়ার, কিন্তু স্বপ্ন অপূর্ণ দেখেই চলে যেতে হল তাকে।