অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে পূর্বতন সরকারের আমলে কেন্দ্র-রাজ্য মতানৈক্য এরাজ্যে একাধিক প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাধা হয়ে ছিল। এরকমই একটি প্রকল্প হল ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা’ (PM Surya Ghar Yojana), যার সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছে বাংলার মানুষ। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির জন্য একের পর এক দরজা খুলে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজ্যবাসীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মোদি সরকারের এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির শুভ সূচনা করেছেন। প্রথম পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনার অধীনে ১৮০০ পরিবার সুবিধা পেয়েছেন। তবে, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক পরিবারের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই হবে সরকারের লক্ষ্য। এর পাশাপাশি, এই প্রকল্প চালু করার ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করার জন্যও পূর্ববর্তী সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনার সূচনা হল পশ্চিমবঙ্গে
২০২৪ সালে এই প্রকল্পের সূর্য ঘর যোজনা চালু করে কেন্দ্র সরকার, তারপর থেকে প্রকল্পটি জনগণের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হল, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির মাথা থেকে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা নামানো। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়িতে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিনামূল্যে প্রতিমাসে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: ১৫ বছরের পুরনো গাড়ির রোড পারমিট বাতিল? বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সূর্যঘর যোজনার অধীনে প্যানেল বসানোর জন্য মেলে সরকারি ভর্তুকি। গত জুন মাসে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে গিয়ে প্রান্তিক মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাঁরা ইলেকট্রিক বিল দিতে পারছেন না, তাঁরা ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘরে’র সুবিধা নিন। এরপর এই যোজনার জন্য অনলাইন ও অফলাইনে আবেদন শুরু হয়। এই এক মাসের মধ্যেই প্রায় ১৮০০ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ভর্তুর্কির টাকা এবং বাড়িতে পৌঁছে গেছে সোলার প্যানেল।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনার সূচনার পরে শুভেন্দু অধিকারী বেশ কয়েকজন সুবিধাভোগীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথপোকথন করেন। তাঁরা জানান, তৃণমূলের আমলেও ওই প্রকল্পেরআবেদন করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কিছু লাভ হয়নি। তবে এখন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে অনলাইনে আবেদন করতেই অ্যাকাউন্টে সোলার প্যানেল লাগানোর খরচের ওপর যে সরকারি ভর্তুকি দেওয়ায় কথা ছিল, তা পৌঁছে গিয়েছে।
আরও পড়ুন: “শুভেন্দু অধিকারী একুশে জুলাই আটকাতে পারল?” মঞ্চ থেকে হুঙ্কার অভিষেকের
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ১ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেলে বসালে ৩০ হাজার টাকা, ২ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেলে ৬০ হাজার টাকা এবং ৩ কিলোওয়াটের প্যানেলে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেয় সরকার। আর এই ভর্তুকির টাকা সরাসরি রাজ্য সরকারের মাধ্যমে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।










