প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মিড ডে মিলে (Mid Day Meal) পড়ুয়াদের যাতে আরও পুষ্টি মেলে তাঁর জন্য একের পর এক পরিকল্পনা নিয়েই চলেছে রাজ্য সরকার। তাই এবার সেই মিলে অতিরিক্ত দিন দেওয়ার উদ্যোগ নিল স্কুল শিক্ষা দপ্তর (School Education Department)। জানানো হয়, রাজ্যের ৮১ লক্ষ ১৯ হাজার ৪১৫ জন পড়ুয়াকে ১২ দিন অতিরিক্ত ডিম দেওয়া হবে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি জারি করলেই এখনও সেই প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় চিন্তায় পড়ল সরকারি স্কুলগুলো।
মিড ডে মিল নিয়ে বিজ্ঞপ্তি স্কুল শিক্ষা দপ্তরের
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে এসেছিল। সেখানে জানানো হয়েছিল এবার থেকে রাজ্যের ৮১ লক্ষ ১৯ হাজার ৪১৫ জন পড়ুয়াকে অতিরিক্ত ডিম দেওয়া হবে। ফ্লেক্সি ফান্ডে প্রতি মাসে ১২ দিন অতিরিক্ত ডিম দেওয়া হবে অথবা মরসুমি ফল দিতে হবে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। আসলে বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, ডাল, সবজির সঙ্গে বাড়তি পুষ্টি হিসাবে ডিম, ফল দেওয়াটা খুব জরুরি, তাই এই উদ্যোগ। কিন্তু ওই বিজ্ঞপ্তির পরে ফেব্রুয়ারি মাস পেরিয়ে গিয়ে মার্চ মাসের আট দিন কেটে গেল এখনও সেই বহু স্কুলে শুরুই হয়নি।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শুরু হয়নি কাজ!
জানা গিয়েছে, কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রায় কোনও স্কুলেই এখনও অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়া শুরু হয়নি। এদিকে চলতি মাস শেষ হতে বাকি ২৩ দিন, মাঝে রয়েছে রবিবার ও ছুটির দিন, সব মিলিয়ে হাতে সময় খুবই কম। ওদিকে মিড-ডে মিলের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহে দু’টি ডিম এমনিই পড়ুয়াদের পাওয়ার কথা। সেই হিসাবে, আগামী তিন সপ্তাহের দু’দিন করে বাদ দিলে ছ’দিন বাদ যাচ্ছে। বাকি থাকছে ১৪ দিন। ফলস্বরূপ যে সব স্কুলে এখনও ফল এবং ডিম দেওয়া শুরু হয়নি, সেখানে কীভাবে ৩১ মার্চের মধ্যে তা দেওয়া সম্ভব হবে এই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এমনকি, যে সব স্কুলে এই কাজ শুরু হয়েছে, সেখানেও ১২টি ডিম বা মরসুমি ফল দিতে পারা যাবে কিনা, সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
বিলম্বের কারণ জানালো দপ্তর
শিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যখন সমস্ত সরকারি স্কুলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তখন নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, সব পড়ুয়া অতিরিক্ত ডিম বা ফল পাবে। উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য কিছু স্কুল এই কর্মসূচি শুরু করতে পারেনি। দ্রুত সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে সেই কাজ শুরু হবে। উল্লেখ্য, কলকাতার বেশ কিছু স্কুলে ফল বা ডিম দেওয়া শুরু হলেও যে সব স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকের আসন পড়েছিল, সেখানে এখনও এই কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ। তবে কিছু স্কুলে সবে অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়া শুরু হয়েছে। তার উপর শহরের কয়েকটি স্কুলে আগামী দু’-এক দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলে আসার কথা। কীভাবে সবটা সামলানো হবে তা বোঝা মুশকিল হয়ে উঠছে সকলের কাছে।
আরও পড়ুন: ‘রাজ্য সরকার চাইলে বাংলায় কমবে গ্যাসের দাম’ কতটা?
বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা জানিয়েছে, “ মার্চে পাঁচ দিন অতিরিক্ত ছুটি। তা হলে ১৪ দিনের মধ্যে পড়ে রইল ন’দিন। যে সব স্কুলে এখনও অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়া শুরু হয়নি, সেখানে মাত্র এই ক’দিনে কোনও ভাবেই তা দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা চাই, প্রতিটি পড়ুয়াকে অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হোক।’’ এখন দেখার ৩১ মার্চের মধ্যে এই কাজ কীভাবে সম্পন্ন হয়।












