সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ পড়ছে এবার ভারতের শেয়ারবাজারে (Indian Stock Market)। সোমবার বাজার খুলতেই এক ধাক্কায় তলানিতে ঠেকল শেয়ার ইনডেক্স। সেন্সেক্স পড়ল প্রায় ২২০০ পয়েন্টের বেশি। মাত্র ৫ সেকেন্ডেই বিনিয়োগকারীদের উধাও হয়ে গেল ৯ লক্ষ কোটি টাকা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই পতন, এমনটাই মত প্রকাশ করছে বিশেষজ্ঞরা। আর যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে (Iran-Israel War) অনিশ্চয়তা দিনের পর দিন বাড়ছে। এমনকি শুধু সেন্সেক্স নয়, বরং নিফটি৫০-ও কমেছে প্রায় ৩ শতাংশের বেশি।
শেয়ারবাজারে বড়সড় পতন
সোমবার বাজার খুলতেই দেখা যায়, ২৪৪১.৫১ পয়েন্ট তলানিতে ঠেকে ৭৬,৪৭৪.৩৯-এ নেমে এসেছে। আর নিফটি৫০ ৭৩৯.৯০ পয়েন্ট কমে ২৩৭২০.৫৫-তে দাড়িয়েছে। এমনকি নিফটিও প্রায় ৫০০ পয়েন্টের বেশি তলানিতে ঠেকেছে। ফলে বাজার খোলার শুরুতেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লক্ষ কোটি টাকা। সেন্সেক্স এবং নিফটি৫০ এর ইনডেক্সে শুধুই রক্তক্ষরণ। বলার বিষয়, বাজারে এই ধস কিন্তু হঠাৎ করে নামেনি। এর আগের ট্রেডিং দিনেও বাজারের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিল না। কারণ, শুক্রবার সেন্সেক্স ১০৯৭ পয়েন্ট তলানিতে ঠেকেছিল আর নিফটি ৩১৫ পয়েন্ট পড়ে।
বেশ কিছু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধসের প্রধান কারণ হল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। ইরান, আমেরিকা আর ইজরায়েলের সংঘাত এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে জ্বালানির দাম দিনের পর দিন বাড়ছে। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত হারে বাড়ছে। হ্যাঁ, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৭ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। আর তেলের দাম বাড়ার কারণে মুদ্রাস্ফীতির উপরও প্রভাব পড়ছে। সেই কারণে শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের উপরেও বাড়ছে খরচ। বলার বিষয়, ২০২০ সালের পর এই প্রথম একদিনে সবথেকে বেশি জ্বালানির দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৭ শতাংশের বেশি ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে।
উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশ। কারণ, ৮৫ থেকে ৯০% তেল শুধুমাত্র আমদানির মাধ্যমেই দেশে আসে। সেই কারণে তেলের দাম বাড়লে আমদানি খরচ অনেকটাই বাড়ে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম যদি ১ ডলার করে বাড়ে, তাহলে ভারতের তেল আমদানি খরচ প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা বেড়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে স্টক মার্কেটে।
আরও পড়ুন: ‘আমার অনুমতি ছাড়া টিকতে পারবে না!’ মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়াতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
তলানিতে ঠেকেছে রুপি
প্রসঙ্গত, তেলের দাম বাড়তেই ভারতীয় রুপিও অনেকটাই পতন হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি সোমবার ৯২.৩৩ টাকাতে নেমে এসেছে। আর গত সপ্তাহ থেকেই দিনের পর দিন তলানিতে ঠেকছে রুপি। এমনকি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা বদল হলেও তেলের দামের বৃদ্ধি আবারো চিন্তায় ফেলেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ কবে যে বন্ধ হবে সেরকম কোনও ইঙ্গিতও এখনো পর্যন্ত মিলছে না। দিনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিলতার দিকে এগোচ্ছে। এখন দেখার, দেশের শেয়ারবাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।












