রাজ্যে পুনরায় চালু হতে পারে ১০টি বন্ধ পাটকল, চাকরি ফিরে পাবেন ২০ হাজার শ্রমিক!

Published:

jute mill

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বাংলার সাধারণ শ্রমিকদের জন্য রইল দারুণ সুখবর। অবশেষে খুলতে চলেছে একের পর এক জুটমিল (Jute Mill), যা এতদিন ধরে বন্ধ ছিল। জানা গিয়েছে, রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংহ পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় ১০টি পাটকল পুনরায় চালু করার জন্য তাঁর দফতরের কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে চাকরি হারানো ২০,০০০-এরও বেশি শ্রমিকের জীবিকা পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অবশেষে বন্ধ থাকা ১০টি জুটমিল খুলছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ইতিমধ্যে রাজ্যের মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বন্টন হয়েছে। বুধবার শ্রম বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা অর্জুন সিংহ (Arjun Singh)। আর দায়িত্ব গ্রহণ করেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। রাজ্যজুড়ে পাটকলগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন।

মিলগুলো পুনরায় চালু করার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে মন্ত্রী আগামী ১৫ই জুন সকল অংশীজনের সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন বলে নির্ধারিত আছে। এই মিলগুলোর বেশিরভাগই হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় অবস্থিত। অর্জুন সিং নিজে উত্তর ২৪ পরগনার পাট বলয়ের বাসিন্দা। উত্তর ২৪ পরগনার বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলগুলোর মধ্যে রয়েছে জগদ্দল জুট মিল, এম্পায়ার জুট মিল, প্রবর্তক জুট মিল এবং অ্যালায়েন্স জুট মিল।

কপাল খুলবে ২০,০০০-এরও বেশি শ্রমিকের?

হুগলির ইন্ডিয়া জুট মিল ও ওয়েলিংটন জুট মিল, সেইসাথে হাওড়ার হাওড়া জুট মিল ও মহাদেব জুট মিলও বন্ধ রয়েছে। শ্রম দফতরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, শ্রমিক, মিল মালিক ও সরকারের মধ্যে ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটির উদ্দেশ্য ছিল পাট শিল্পে স্থিতিশীলতা ও ন্যায্যতার জন্য একটি ন্যূনতম কাঠামো প্রদান করা। তবে এর বেশিরভাগ মূল বিধানই বাস্তবায়িত হয়নি। কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যাপক অসামঞ্জস্যের কারণেই বর্তমান সঙ্কটটির সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, পাট কমিশনারের কার্যালয়ের সাম্প্রতিক অভিযানে বড় আকারে কাঁচা পাট মজুত করার বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে, যা এই সংকটের পেছনে কালোবাজারি এবং মজুত করাকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কাঁচা পাটের অপ্রাপ্যতার কারণে অনেক কৃষক বিকল্প ফসলের দিকেও ঝুঁকছেন। তবে চিন্তা নেই, সরকারের বন্ধ জুটমিলগুলি খোলার কারণে বহু চাকরি হারা ফের চাকরি পেতে পারেন। আর এই সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি।

আরও পড়ুনঃ কালিম্পংয়ে ২৬, দার্জিলিংয়ে ১৭, উত্তরবঙ্গে একগুচ্ছ রাস্তা তৈরির অনুমোদন সরকারের

এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, ‘জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (জেসিআই)-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি জেসিআই সরাসরি এবং বৃহৎ পরিসরে কাঁচা পাট সংগ্রহ করে, তাহলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন, মজুতদারি রোধ করা যাবে এবং মিলগুলোতে সরবরাহ নিশ্চিত হবে। একটি সক্রিয় জেসিআই ছাড়া এই সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন যে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এখন ক্ষমতায় আসায়, কাঁচা পাটের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং মিলগুলো পুনরায় চালুর সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রকের পাশাপাশি মিল মালিক ও ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে।