ছাত্র আন্দোলনে কীভাবে বিদেশী তৎপরতাকে আটকে দিলেন মোদী?

Published:

CJP Protest Reality

নেপাল- বাংলাদেশের পর, এবার ছাত্রদের ব্যবহার করে ভারত কবজা করতে চেয়েছিল ভারত বিরোধী কিছু গ্যাং!

আর তাই ছাত্র আন্দোলনের নামে গত ৫০ দিন ধরে –
কেউ দিচ্ছে হিন্দু বিরোধী শ্লোগান,
কেউ দিচ্ছে আজাদির শ্লোগান,
কেউ তুলছে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা,
আবার কেউ বলছে বাস নাম রাহেগা আল্লাহ কা!

শুধু তাই নয়, ছাত্র আন্দোলনকে হাইজ্যাক করতে বিদেশ থেকে আসছিল কোটি কোটি টাকার ফাণ্ডিং!

কিন্তু এবার সেইসব চেষ্টাকেই এক ঝটকায় তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী!

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে –
ছাত্র আন্দোলনকে কীভাবে হাইজ্যাক করল দেশ-বিরোধী শক্তিরা?
কীভাবেই বা বাংলাদেশ-নেপালের পরস্থিতি করতে চেয়ছিল ভারতে?
আর ঠিক ঠিক কোন কোন মাস্টারস্ট্রোকে দেশ বিরোধীদের ব্যান্ড বাজালেন মোদী?

আজ India Hood Decode-এর এই লেখায় আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য যা তুলে ধরছে না ভারতের কোনও মেনস্ট্রিম মিডিয়া। তাই পড়তে থাকুন আর জানতে থাকুন।

সরকার যায়, সরকার আসে – প্রশ্নপত্র ফাঁস থামে না!

সময়টা ২০১৪, প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে মোদী সরকার। এরপর ঠিক এক বছরের মধ্যেই ২০১৫-তে প্রথমবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় NEET পরীক্ষার।

NEET অর্থাৎ ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট।
আর এরপর ২০১৬, তারপর ২০২১, তারপর ২০২৪, আর এবার ২০২৬-এ পর পর লিক হয় নিটের প্রশ্নপত্র! যে পরীক্ষা নির্ধারণ করে কে যোগ্য প্রকৃত ডাক্তার হওয়ার।

তবে শুধু নিট কেন, যে কোনও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি বিরাট ক্ষতি।

আর কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি জমানায় একাধিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, গাফিলতি হয়েছে – কিন্তু সমাধান কখনোই হয়নি। পরিস্থিতি শোধরায়নি। শুধু বেড়েছে হতাশা আর আত্মহত্যা!

তবে এবছর ঘটনাটা অন্য। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু এই সমস্ত কিছু ভেস্তে দিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেয় NTA অর্থাৎ ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। ১২ই মে ঘোষণা করা হয় – পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে ২১শে জুন। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের মাথায় ছিল পিভি কুলকার্নি  – একজন রসায়নের লেকচারার, এবং মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে একজন প্রবীণ বোটানি শিক্ষক।

কিন্তু, পুনরায় পরীক্ষা হওয়ার কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে প্রচুর শিক্ষার্থী। নিজেকে শেষ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় প্রায় ২০ জন! আর এই ঘটনাকেই হাতিয়ার করে CJP অর্থাৎ ককরোচ জনতা পার্টি। প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায়, তারপর রাস্তায় নেমে শুরু হয় আন্দোলন।

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ!

৩রা জুন, দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হয় প্রথম প্রতিবাদ। সারা দেশের যুবসমাজকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়, এবং দাবী তোলা হয় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার!

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে –  ২১শে জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা হওয়া সত্ত্বেও, এই প্রতিবাদ কেন ৩ তারিখে শুরু করা হল? যদি ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা ছিল তাহলে তো ২১শে জুনের পরে তো এই প্রতিবাদ করতে পারতো!

বিদেশি ফাণ্ডিং বন্ধ!

এরপর ২৮শে জুন, এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেন বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার এবং তথাকথিত বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক, এবং শুরু করে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন।

আর এর ঠিক পরেই এক এক করে এই মঞ্চে আসতে শুরু করে শাবানা আজমি থেকে শুরু করে নাসিরুদ্দিন সাহা এমনকি স্বারা ভাস্কররা।

কিন্তু কখনও ভেবেছেন – প্রতিবাদ শুরুর প্রায় ২৫ দিন পর তারা কেন এই আন্দোলনে অংশ নিল? কারণ এর পেছনে রয়েছে কেন্দ্র সরকারের লাগু করা FCRA আইনের নতুন ধারা!

গত ২২শে জুন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবার বিদেশ থেকে আসা প্রতিটি ফাণ্ডিং আরও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হবে। যেমন – কোনও সংস্থা ধর্মান্তকরণের জন্য কোনও বিদেশী ফাণ্ড ব্যবহার করতে পারবে না, কোন উদ্দেশ্যে ফাণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কোথায় ব্যবহার করা হচ্ছে – এবার সেই সমস্ত তথ্য দিতে হবে সরকারকে!

আর আপনাদের জানিয়ে দিই – সোনম ওয়াংচুকের রয়েছে দুটি NGO, একটি SECMOL এবং অন্যটি HIAL। যেগুলিতে ফাণ্ড আসে বিদেশ থেকে। অন্যদিকে, শাবানা আজমি হোক কিংবা নাসিরুদ্দিন শাহ – এদের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব NGO।

আশা করছি এবার বুঝতেই পারছেন তাদের প্রতিবাদের পেছনের আসল উদ্দেশ্যটা কী?

প্রতিবাদের ধর্মীয়করণ!

এবার আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আর একটা দিক।

২০শে জুন, এই মঞ্চে আসেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা নন্দিতা নারায়ণ। তিনি সেই মঞ্চে প্রতিবাদ করার সাথে সাথে বলেন – “বাস নাম রাহেগা আল্লাহ কা!“ অর্থাৎ ভেবে দেখুন – ছাত্রদের আন্দোলনে বলা হচ্ছে “বস নাম রাহেগা আল্লাহ কা!” কিন্তু কেন?

এরপর ১৫ই জুলাই এই মঞ্চে আসেন কমেডিয়ান কুনাল কামরা। তিনি সরকারের বিরোধিতা করে বলেন – “ইয়ে সরকার সীতা কে পতি কা নাম লেকার, নীতা কে পতি কা কাম কর রাহা হ্যায়!“

অর্থাৎ একদিকে প্রফেসর করছেন আল্লাহ-র নাম, আর কমেডিয়ানরা মজা ওড়াচ্ছে ভগবানকে নিয়ে।

এরপর ১৯শে জুলাই এই মঞ্চে উপস্থিত হন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন – “লোক বলতে হ্যায় জয় শ্রীরাম, হাম নেহি বোলেঙ্গে। হাম বোলেঙ্গে জয় ভীম।“ এখানেও কোন প্রসঙ্গে প্রকাশ রাজ এই মন্তব্য করলেন সেটাও ঠিক স্পষ্ট নয়।

এমনকি এই প্রতিবাদে ব্রাম্ভণবাদেরও বিরোধিতা করা হয় যার সাথে পরীক্ষা ব্যবস্থার কোনও যোগ নেই।

দেশবিরোধী তকমা

এরপর দেখা যায়, শুধু ধর্মীয়করণ না, এই আন্দোলনে উঠছে একাধিক দেশবিরোধী আজাদি শ্লোগানও! কোথাও যুবসমাজের অনেকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করেছে, কেউ আবার উমর খলিদের সমর্থন করেছে, কেউ আবার বলছে নেপাল বানানো হবে ভারতকে।

এই প্রতিবাদমঞ্চে ৫ই জুলাই দেখা যায় এমন এক ব্যাক্তিকে যিনি বলেছিলেন ভারত কাশ্মীরের অংশ নয়। এমনকি তাঁকে অতীতে ইয়াসিন মালিকের মতো আতঙ্কবাদীদের সাথে দেখা গিয়েছিল। তিনি হলেন লেখিকা অরুন্ধুতি রায়।

এই প্রতিবাদে, ইউটিউবার সামধিস ভাটিয়া উপস্থিত হন। কিছু প্রতিবাদকারী “ভারত মাতা কি জয়“ শ্লোগান দিচ্ছিল। সামধিস তাদের থামিয়ে বলেন – “ইয়ে সব বুলশিট শ্লোগান ইউস করনে সে নেহি চলেগা!“ ভাবুন – ভারত মাতা কি জয় একটা বুলশিট শ্লোগান?

এরই মধ্যে একজন মহিলা এই আন্দোলনের মঞ্চে এসে বলেন – “ইয়ে তো কেহতে হ্যায় ভারত হামারে মাতা হ্যায়, পার আব ইয়ে বাপ ঢুণ্ড রাহা হ্যায়!“

আবার এই আন্দোলনে শুরু থেকেই সমর্থন রয়েছে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর, যিনি ভারত এবং হিন্দু বিরোধী কথা বলার কোনও সুযোগই ছাড়ে না।

আল জাজিরার মতো সংবাদমাধ্যম এই প্রতিবাদকে সমর্থন করে লিখেছে – এখন নয় তো কখনোই নয়। এটা সেই সংবাদমাধ্যম, যারা ২০১৫ সালে একটি ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করেছিল – যেখানে জম্মু-কাশ্মীর এবং আকসাই চিনকে ভারতের অংশ বলে দেখায়নি। লাক্ষাদ্বীপকেও ভারতের অংশ বলে দেখায়নি।

খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠন শিখ ফর জাস্টিস-এর তরফ থেকে সিজেপি-কে ১ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি বলা হয় সরকারের সাথে কোনও আলোচনা না করে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত এই প্রতিবাদ চালাতে হবে এবং মোদীকে স্বাধীনতা দিবস পালন করা থেকে আটকাতে হবে।

এমনকি আইএএনএস, এবং অন্যান্য সাংবাদিকদের রিপোর্টিং অনুযায়ী কাতার এবং বাংলাদেশ থেকে জ্যোম্যাটো এবং সুইগির মাধ্যমে প্রতিবাদস্থলে খাবার পাঠানো হচ্ছে।

Deep State যোগ!

শুধু তাই নয়, ২০শে জুলাই, সিজেপি-র নেতৃত্বে সংসদ চলো নামক একটি মার্চ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আমেরিকান এমবাসি এর ঠিক তিন দিন আগেই অর্থাৎ ১৭ই জুলাই একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায় – ২০শে জুলাই, দিল্লিতে বিরাট জনসমাবেশ হতে চলেছে, ফলে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। ২১শে জুলাইয়ের জন্যও একই নির্দেশিকা জারি করা হয়। কিন্তু কীভাবে CJP-র আগেও এই খবর আমেরিকা পেয়ে গেল – এখন সেই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

যার ফলে এই আন্দোলনে ডিপ স্টেটের মদত থাকার অভিযোগ উঠছে।

মোদীর অ্যাকশন!

একথা নিশ্চয়ই শুনেছেন ওস্তাদের মার শেষ রাতে! ১৯শে জুলাই হঠাৎই প্রতিবাদস্থল থেকে পুলিশ এসে তুলে নিয়ে যায় সোনম ওয়াংচুককে!

এরপর ২৩শে জুলাই, প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁস ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করার কথা বলেন। জানান – ৩ মাসের মধ্যে তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এরপর ওই দিনই রাত্রে, স্যুপ খাইয়ে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙান জেপি নাড্ডা। আর অন্যদিকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন নরেন্দ্র মোদী, যা পৌঁছে গিয়েছে ৪০ কোটি মানুষের কাছে।

আর ২৪শে জুলাই, পাবলিক এগজ্যামিনেশন অ্যাক্ট ২০২৪-এ বেশ কিছু বদল করার প্রস্তাব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার তরফ থেকে। যেমন – শাস্তি বাড়ানো, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা, মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।

আর এরপরে ২৫শে জুলাই ঘটে যায় সবথেকে বড় ঘটনা! ইস্তফা দেয় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক কথায় ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যেভাবে দেশবিরোধী শক্তি মাথা চাড়া দিয়েছিল তা শেষ করা হয় মাত্র ৩ দিনের মধ্যে।

যার ফলে আন্দোলন বন্ধ করতে বাধ্য হয় CJP, আর অন্যদিকে বিদেশী শক্তিদের ভারত ভাঙার চেষ্টাও ব্যর্থ হয় একে একে।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে আপনার কী মত?
সত্যিই কি পদত্যাগ করা উচিত হয়েছে তাঁর?
CJP-র প্রতিবাদ নিয়েও বা আপনি কি মনে করেন?
এই আন্দোলন কি সত্যিই হাইজ্যাক হয়েছিল?

জানাতে ভুলবেন না কমেন্ট বক্সে।