কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষ! ঋতব্রত নাকি কালীঘাট, কোন শিবিরে গেল তৃণমূলের প্রতীক?

Published:

Trinamool Congress

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জোড়াফুল কার? মমতার নাকি নিজেদের আসল তৃণমূল (Trinamool Congress) দাবি করা ঋতব্রত শিবিরের? আজ দিল্লিতে দুই শিবিরের প্রতিনিধিদের তলব করে নির্বাচন কমিশন। দিল্লিতে আজ প্রথম পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে ঋতব্রত তৃণমূলের সঙ্গে। এক ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়াফুল শিবিরের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা কমিশনের। তবে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আসল তৃণমূল কি তাহলে ঋতব্রত শিবিরই? কী জানাল নির্বাচন কমিশন?

কোন শিবিরে যাচ্ছে ঘাসফুল?

প্রথম পর্যায়ের বৈঠক শেষে কমিশনের অফিস থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁরা নির্বাচন কমিশনের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সঠিক দিয়েছেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তৃণমূল কোনও পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়। একজনের কথায় সবকিছু চলতে পারে না। ঋতব্রত জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন তাঁরা এবং রাজ্যের সাগর থেকে পাহাড়, দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁদেরই। এমনকি বিকল্প প্রতীকের বিষয়েও আলোচনা হয়নি বলে জানান বিরোধী দলনেতা।

তবে নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, “কারও মর্জির উপর গণতন্ত্র চলে না। তৃণমূল কারোর বাপের সম্পত্তি নয়। কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। কমিশনের সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের বৈঠক হয়েছে। ভেতরে কী কী কথা হয়েছে তা তো বিস্তারিত বলা যাবে না। তবে এ কথা স্পষ্ট করে দিচ্ছি যে, না খাতা না বহি, মমতা ব্যানার্জি হি সহি, এভাবে আমরা চলি না।” উল্লেখ্য, এরপর কমিশন কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। আর সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে অফিসে উদ্ধার সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত দেহ, ঘনাচ্ছে রহস্য

এদিকে আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে দুই তৃণমূলের মধ্যে প্রতীক নিয়ে শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি। প্রথম থেকেই ঋতব্রত শিবির দাবি করে আসছে যে তাঁরাই আসল তৃণমূল। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের প্রতীক সামলানোর দাবিতে কমিশনকে ইতিমধ্যেই দু’বার চিঠি পাঠিয়েছেন। আবার বিরোধী শিবিরের দাবি, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁরা প্রার্থী দেবে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জেতার আশা পূরণ করবেন তাঁরা। এখন দেখার কমিশন এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।