সহেলি মিত্র, কলকাতা: আশঙ্কাই সত্যি হল। আবারো একবার বড়সড় আন্দোলনের ইঙ্গিত দিলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ভাস্কর ঘোষ। টেট থেকে শুরু করে ডিএ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে বারংবার আলোচনা সত্ত্বেও কোনওরকম রফাসূত্র বেরোয়নি। প্রতিশ্রুতি দিয়েও কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ অনেকের। এদিকে ইন্দু মালহোত্রার কমিটির বৈঠক যেটি আজ শনিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল সেটাও বাতিল হয়েছে। বারবার এই ধাক্কা অনেকের মনোবলকে যে ভেঙে দিচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে টেট নিয়েও জট কাটছে না। এহেন অবস্থায় সকলকে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন ভাস্কর ঘোষ (Bhaskar Ghosh)।
নতুন লড়াইয়ের ডাক ভাস্কর ঘোষের
এই বিষয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘লড়াইয়ের জন্য তৈরি হোন। কোনো অন্যায়কারী শক্তির কাছে মাথা নত করি না ভবিষ্যতেও করবো না।’ সামনেই রয়েছে দুর্গাপুজো। কিন্তু তাতেই কী! মনে শান্তি নেই কারোর। বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কাজ করেনি সরকার। এবার সেই ঘটনারই পাল্টা দিতে চলেছেন কর্মীরা বলে খবর। বকেয়া ডিএ থেকে শুরু করে গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের বকেয়া, টেট নিয়ে সমস্যার সমাধান, কিছুই না হওয়া আন্দোলন ছাড়া আর কোনও পথ দেখছেন না সরকারি শিক্ষক মহল থেকে শুরু করে আরও অনেক মহল। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দফতর শুক্রবার কর্তৃপক্ষকে কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (TeT) পরিচালনার ব্যবস্থা করতে বলেছে। শুক্রবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে, বিভাগটি ২০০৯ সালের শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার (আরটিই) আইন কার্যকর হওয়ার আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের টেট পরিচালনার ব্যবস্থা সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্কুল পরিষেবা কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের কাছে তথ্য চেয়েছে।
এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এর ‘স্টেট অফ উত্তর প্রদেশ বনাম আঞ্জুমান ইশাত-ই-তালিম ট্রাস্ট অ্যান্ড অর্স’ মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে। আরটিই আইন প্রণয়নের আগে নিযুক্ত কর্মরত শিক্ষকদের জন্য আদালতের নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে টিইটি যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করেছে। পরবর্তীতে শীর্ষ আদালত ২৯ মে, ২০২৬ তারিখে একটি পুনর্বিবেচনা আদেশে তার নির্দেশনা সংশোধন করে TET যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করে। সেই অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট, ২০২৮-এর মধ্যে এই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকারি কর্মীরাও
এদিকে এই বিষয় নিয়ে ফেসবুকে কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। একজন লিখেছেন, ‘ভারতবর্ষের যে প্রান্তে ডাকবেন সেখানে যেতে প্রস্তুত আছি ক্যাপ্টেন।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব কিছু একটা কর্মসূচী গ্রহণ করতেই হবে ভাস্কর দা, সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে আর একবার আলোচনা করা খুব প্রয়োজন। তবে যাই করবেন একটু তাড়াতাড়ি করুন।’ একজন লিখেছেন, ‘তীব্র থেকে তীব্রতর প্রতিবাদ হওয়া দরকার,যে আন্দোলন বিগত দিনে কেউ দেখে নি এবং আগামীতেও কোনোও প্রশাসন এই ধরণের ন্যাক্কারজনক কাজ করার আগে বিশবার ভাববে…উপ্তার উপর পুরো ভরষা আছে…।’ আরেকজন তো আর পার্লামেন্ট অভিযান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ দুর্নীতিতে আরও বড় নাম জড়িত! সব অপরাধ স্বীকার করলেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়
অপর একজন লিখেছেন, ‘ভাস্কর দা আর নয় অনেক হয়েছে এবার আন্দোলনের ডাক দিন।এই সরকার আমাদের নিয়ে খেলতে চাইছে। আমরাও খেলার জন্য ফুল প্রস্তুত। আপনি দেরি না করে দ্রুত ডাক দিন।’ অন্য একজন পরামর্শ দিয়েছে, ‘সারাদেশ ব্যাপী শিক্ষকদের জোটবদ্ধ করে দিল্লি ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করতে হবে।’










