সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শালবনিতে জমি দুর্নীতি মামলায় সিআইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)। সর্বোচ্চ আদালত রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করতেই সুমিতকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী সংস্থা। গতকাল তাঁকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে তোলা হয়। এমনকি সিআইডি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছেন বলেও খবর। আর জিজ্ঞাসাবাদ পর্বেই অভিষেকের আপ্তসহায়ক সমস্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলেই দাবি রিপোর্টের।
সমস্ত অপরাধ স্বীকার করলেন সুমিত রায়
এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর শালবনিতে জমি দুর্নীতি এবং ডেবরায় চাকরি দুর্নীতির অভিযোগ জড়িয়েছিল তৃণমূল সাংসদের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে। চাকরি দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেও স্বস্তি পাননি জমি দুর্নীতিতে। হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল সুমিত রায়কে। তবে প্রথমে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিলেও রাজ্যের তরফ থেকে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠতেই তা প্রত্যাহার করে নেয় সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ঠিক তার পরপরই কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকেই সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে সিআইডি।
গতকাল সুমিতকে মেদিনীপুর জেলা আদালত হাজির করানো হয়। এমনকি বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ সিআইডির গাড়িতে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে বিচারপতির কাছে সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদের অর্জি জানালে আদালত তা মঞ্জুর করে। জিজ্ঞাসাবাদ পর্বেই সমস্ত অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক, এমনটাই দাবি তদন্তকারী সংস্থার। সুমিত রায় জানিয়েছেন, এই অপরাধের পিছনে একটি বৃহত্তর চক্র বা র্যাকেট রয়েছে। এমনকি সেই র্যাকেটের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সহযোগীদেরও শনাক্ত করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ৪৪৪ দিনের FD-তেই মিলবে ২৪,৩০০ টাকা সুদ, দারুণ অফার এই ব্যাঙ্কের
সুমিতের আরও দাবি, অপরাধে যুক্ত টাকা বা লেনদেন উদ্ধারে তিনি তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি আদালতে পেশ করা নথিতে সিআইডির আধিকারিকরা উল্লেখ করেছেন যে, ইতিমধ্যেই বিএনএসএস-র ১৮০ নম্বর ধারায় সুমিতের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। সুমিত জানান, কোটি কোটি টাকা লেনদেনে আরও বড় বড় নাম জড়িত। সেই সূত্রে এখন সিআইডি আধিকারিকদের মূল লক্ষ্য, এই দুর্নীতির নেপথ্যে আসল চক্রকে খুঁজে বার করা। এমনকি কার বা কাদের নির্দেশে সুমিত এই সমস্ত কাজ পরিচালনা করতেন, সেই নির্দেশ কোথা থেকে আসত, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










