প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে গোটা দেশ জুড়ে তীব্র তেলের সংকট দেখা যাচ্ছে। পেট্রোল ডিজেলের দাম বেড়েই চলেছে। এদিকে মূল্যবৃদ্ধির আঁচ পড়েছে বাংলাদেশে (Bangladesh)। জানা গিয়েছে, সেখানে বহু জায়গায় পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। গাড়িতে তেল ভরার জন্য বাকি পাম্পগুলিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেককে। মহা সমস্যায় পড়েছে ওপার বাংলার মানুষ। আর এই পরিস্থিতিতে এবার ভারত থেকে ডিজেল (India Sends Diesel) পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে, তাও আবার পাইপলাইনের মাধ্যমে।
আজই বাংলাদেশে যাচ্ছে ডিজেল
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ওরফে BPC-র বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে যাচ্ছে। আর এই জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে ওই দেশে পৌঁছাবে। ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। মূলত জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখতে এবং দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
ভারত বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক
উল্লেখ্য, গত রবিবার জ্বালানি সংকট মেটাতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে বাংলাদেশ-ভারত পাইপলাইন দিয়ে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। তাই সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের তৎপরতার ৫ হাজার টনের ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে যাচ্ছে। অন্যদিকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহে পরিবহন খরচ এবং সময় দুটোই সাশ্রয় হবে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: গ্যাস নিয়ে LPG কোম্পানিগুলোকে নয়া নির্দেশ কেন্দ্রের
প্রসঙ্গত, ভারত, ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছিল বাংলাদেশকে। এরপর ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ২৪ হাজার ২১৬ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছে। এছাড়া ভারত থেকে বিভিন্ন সময় জেটফুয়েল, ফার্নেস অয়েল এমনকি অকটেনও আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবে আশা করা যাচ্ছে এইবারে হয়তো ধীরে ধীরে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হবে।












