আসানসোলে CISF ক্যাম্পে আমের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেফতার জওয়ান

Published:

Asansol

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই বঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির হাওয়া বেশ গরম। এমতাবস্থায় নাবালিকাকে ধর্ষণের (Minor Rape Case) চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক কর্তব্যরত CISF জওয়ানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের (Asansol) লালবাজারে। ইতিমধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁকে। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে।

আম দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল অর্থাৎ রবিবার দুপুরে কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে আসানসোলের শীতলপুর CISF ক্যাম্পে থাকা আমবাগানে গিয়েছিল ১০ বছরের এক নাবালিকা। সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে আম কুড়োচ্ছিল মেয়েটি। আর সেই সময়ে ক্যাম্পেই ছিলেন অভিযুক্ত CISF জওয়ান রমাকান্ত। অভিযোগ, আম দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ওই জওয়ান নাবালিকাকে ঘরে ডাকেন। কিশোরিও আম পাওয়ার আশায় ঘরে ঢুকতেই রমাকান্ত তাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করলে তখনই তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন অভিযুক্ত।

গ্রেপ্তার CISF জওয়ান

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর নাবালিকা কোনো রকমে বাড়িতে ফিরে কান্নায় ভেঙে পরে বাবা মায়ের কাছে এবং সদস্যদের পুরো ঘটনা খুলে বলেন। ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবারের সদস্য সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। শীতলপুরের CISF ক্যাম্প ঘেরাও করার পাশাপাশি কিশোরীর বাবা কুলটি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরে রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ কুলটি থানার পুলিশ CISF জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৩৭(২) ও ৩৫১ (২) ধারার পাশাপাশি পকসো আইনের ৮ এবং ১০ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। আজই শীতলপুরে ইসিএল সদর দফতর থেকে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: “বাংলায় পরিবর্তন নিশ্চিত, ৪ মে-র পর শপথে আসবই” শেষ প্রচারে ঝড় তুললেন মোদী

গতকাল রাত থেকেই এলাকার স্থানীয়রা প্রতিবাদ শুরু করেছিল। ক্যাম্পের তিন নম্বর গেটের সামনে রাস্তাও অবরোধ করেছিলেন তাঁরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন স্থানীয় সাকতোরিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ বিনয় দাস। আজ, সোমবার CISF এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছিল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। আপাতত তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় না-দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হয় বরাবর।