সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ একদিকে যখন মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এলপিজির দাম নিয়ে মাথায় হাত পড়েছে মানুষের, তখন আচমকাই ডিমের দাম (Egg Price) কমতে শুরু করল। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। কিছুদিন আগে অবধি একটা ডিম যেখানে ৮ থেকে ৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন সেই দাম মাত্র ৫ টাকার আশেপাশে নেমে এসেছে। শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। আচমকা এরকমভাবে ডিমের দাম কমছে কেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
হু হু করে দাম কমছে ডিমের
যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা আগামী দিনে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে সেটা ভেবেই শিহরিত মানুষ। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে টান পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের হেঁশেল থেকে শুরু করে হোটেল ব্যবসার ওপর। ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম, বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এখন আকাশছোঁয়া। এদিকে অটো, ক্যাব ভাড়া বেড়ে গিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বেড়ে যাতে পারে, এই আশঙ্কায় রাতে ঘুম আসছে না অনেকের। সেখানে ডিমের দামের ক্ষেত্রে ছবি একদম আলাদা। দেশের একাধিক রাজ্যে ডিমের দাম কমে অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদের।
কী বলছেন ব্যবসায়ীরা?
অনেকেই বলছে, চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সকলে ডিম অর্ধেক দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আসলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ভারতের ডিম রপ্তানির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে ডিম রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে কর্ণাটক এবং তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যগুলিতে ডিমের দাম বিরাট অঙ্কে হ্রাস পেয়েছে। যা আগে প্রতি ডিমের দাম ছিল ৭, এখন ৪.৬০ টাকায় নেমে এসেছে। রমজান মাসেও ডিমের চাহিদা কমেছে।
কর্ণাটকে ডিমের দাম সম্প্রতি তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। জাতীয় ডিম সমন্বয় কমিটির বিক্রয় প্রচার কর্মকর্তা ভি. শেষনারায়ণ জানিয়েছেন যে উপসাগরীয় দেশগুলিতে রপ্তানিতে ব্যাঘাত এবং মরসুমি চাহিদার ওঠানামা সহ বেশ কয়েকটি কারণের কারণে গত ১৫ দিনে দাম কমেছে। কর্ণাটক প্রতিদিন ২ কোটি ২০ লক্ষ ডিম উৎপাদন করে। হসপেট বৃহত্তম উৎপাদক, তার পরেই মহীশূর। রপ্তানির জন্য ডিম সাধারণত তামিলনাড়ুর নামাক্কলের একটি কারখানায় পাঠানো হয়। যুদ্ধের কারণে, মহীশূর থেকে নামাক্কলে ৪.৭ লক্ষ ডিম বহনকারী একটি কন্টেইনারকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল। এর ফলে রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ হাওড়াগামী বহু ট্রেনের নম্বর, বিভাগ বদলাচ্ছে রেল! ভ্রমণের আগে দেখুন তালিকা
পবিত্র রমজান মাসের কারণে ডিমের ব্যবহার কমে গেছে। তাছাড়া, আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলেও ডিমের ব্যবহারে প্রভাব পড়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও চাহিদা কমেছে, যার ফলে ডিমের দাম কমেছে। উৎপাদকরা অতিরিক্ত ডিম হিমঘরে সংরক্ষণ করছেন, তবে এর জন্য উল্লেখযোগ্য খরচ হচ্ছে। একই ছবি অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানাতেও। সেখানেও হু হু করে ডিমের দাম কমছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, খুচরা বাজারে ডিম প্রতি ৮ টাকা ছিল, যা গত দুই মাসে ৩.৫০ থেকে ৩.৮০ টাকায় নেমে এসেছে। ব্যবসায়ী এবং কৃষকরা বলছেন, রপ্তানি চাহিদা এবং স্থানীয় ব্যবহার উভয়ই হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে মুনাফা হ্রাস পেয়েছে।












