প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চৈত্রের শেষ থেকেই গরমে নাজেহাল অবস্থা বঙ্গবাসীর। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপপ্রবাহ (Heat Wave)। এই অবস্থায় কড়া রোদের মধ্যেই বই ভর্তি ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে পড়ুয়াদের (School Students), আর তাতেই বাড়ছে চিন্তা। এদিকে চরম গরমে বাচ্চাদের স্বস্তি দিতে এ বছর গরমের ছুটি (Summer Vacation) এগিয়ে আসবে কিনা, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য শিক্ষা দফতরের তরফে স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা পাওয়া যায়নি। তাই সেক্ষেত্রে পড়াশোনার কথা মাথায় রেখে গরমের ছুটি এগিয়ে না এনে সকালে পঠনপাঠন শুরু করার আবেদন (Teachers Demanding to Change School Timing) জানাল শিক্ষকদের একাংশ।
বাড়ছে স্কুলছুটের সংখ্যা
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে নির্ধারিত গরমের ছুটির অনেক আগেই স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরফলে পরে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেও অনেক সময়েই পাঠ্যক্রম শেষ করতে পারেন না শিক্ষকেরা। শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন স্কুলছুটের সংখ্যাও বেশ বাড়তে থাকে, তাই, প্রাথমিক ভাবে গরমের ছুটি বাড়িয়ে যাতে না দেওয়া হয় তার জন্য সকালে স্কুল চালুর দাবি করলেন শিক্ষকরা। ইতিমধ্যেই শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের তরফেও প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব স্তরে সকালে স্কুল চালু করার দাবি জানিয়ে তারা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের পাশাপাশি মধ্যশিক্ষা পর্ষদেও আবেদন জানিয়েছে।
সকালে পঠনপাঠন শুরুর আর্জি শিক্ষকদের
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘‘বাম আমলে গরম পড়লেই সকালে স্কুল চালু হত। এর ফলে কখনও শিক্ষাদিবসের সংখ্যা কমে যায়নি। সুস্থ ভাবে পড়ুয়ারা স্কুল করতে পারত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে গরমের ছুটি বেড়ে যাওয়ায় পড়ুয়াদের পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।’’ নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল বলেন, “দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তীব্র গরম। এই সময় স্কুলে এসে ক্লাস করা খুবই কষ্টকর। সেক্ষেত্রে রোদ চড়া হওয়ার আগেই ক্লাস শেষ হয়ে গেলে কষ্ট কম হবে। অর্থাৎ পড়ুয়ারা শরীর সুস্থ রেখে যেন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে সেটা দেখাই সকলের কর্তব্য।’’
আরও পড়ুন: হাওড়া ডিভিশনে ফের মেগা ব্লক, মে মাসে বাতিল থাকবে একগুচ্ছ ট্রেন
প্রসঙ্গত, গত সোমবার, বিকাশ ভবনে শিক্ষাসচিবকে সকালে স্কুল চালু করার জন্য একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ। এখনও কোনো সরকারিভাবে জবাব পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, স্কুলের সময় এগিয়ে আনার কোনও পরিকল্পনা এখনও করা হয়নি। যদি কিছু হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত ভোটের পরে নেওয়া হবে।” এদিকে ঠিক কবে থেকে গরমের ছুটি পড়ছে, তার এখনও কোনও নির্দেশিকা জারি হয়নি। আশা করা হচ্ছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষের দিকে বা দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথমদিকে গরমের ছুটি পড়তে পারে।










