SSC শিক্ষক দুর্নীতিতে নতুন মোড়! OMR প্রকাশ ও অবৈধ বেতন নিয়ে চাপ বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট

Published:

Supreme Court

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের জেরে রাজ্য জুড়ে এক চাপা উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেলায় জেলায় দিন রাত হয়েই চলেছে ভোটের প্রচার। আর এই অবস্থায় ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা (SSC Recruitment Case)। ওএমআর শিট প্রকাশ, দাগী প্রার্থীদের বেতন ফেরত নিয়ে ফের জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। আর তাতেই কড়া অবস্থান নিলেন বিচারপতি।

SSC নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হাইকোর্টে

রিপোর্ট মোতাবেক SSC নিয়োগ সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল শীর্ষ আদালতে। সেখানে ওএমআর শিট প্রকাশ, দাগী প্রার্থীদের বেতন ফেরত এবং অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি নিয়ে করা হয়েছিল মামলা। আর সেই মামলাটি গ্রহণ করেছে বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ। আজ সেই মামলার শুনানি ছিল। এদিন মামলার শুরুতেই শিক্ষক নিয়োগে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার। তিনি প্রশ্ন করেন, আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন এখনও সেই বিষয়ে খতিয়ে দেখা হয়নি।

রাজ্য সরকারের প্রতি বিরক্ত প্রকাশ হাইকোর্টের

বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাকারীদের দাবি ছিল যে সমস্ত প্রার্থীর নিয়োগ অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে, তাদের প্রাপ্ত বেতন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। দ্বিতীয় দাবি ছিল দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। এবং তৃতীয় দাবি ছিল সমস্ত প্রার্থীর OMR শিট জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে যাতে যোগ্য ও অযোগ্যদের পার্থক্য স্পষ্ট হয়। কিন্তু এইসব দাবিগুলো একটাও পূরণ করেনি স্কুল সার্ভিস কমিশন। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে যে, আদালতের দেওয়া নির্দেশাবলীর প্রয়োগে অত্যাধিক বিলম্ব এবং বিভ্রান্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই কাজ আসলে স্বচ্ছতাকে কালিমালিপ্ত করছে।

আরও পড়ুন: ইফতারে যাওয়ার জের, কমিশনের নির্দেশ অমান্য করায় ৭ জওয়ানকে বড় শাস্তি

বিচারপতি সঞ্জয় কুমার সাফ জানিয়ে দেন, “নির্দেশ পালনে অনীহা কেবল আইনি অবমাননা নয়, বরং কয়েক হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে এক ধরণের প্রতারণা। আদালতের নির্দেশ পালনে যে ঢিলেমি দেখা যাচ্ছে, তা মোটেই অভিপ্রেত নয়।” তাই আদালত এবার এই মামলায় যুক্ত সমস্ত পক্ষকে এই প্রশ্নগুলির হলফনামা আকারে জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই জবাবের মাধ্যমে রাজ্য সরকারকে পরবর্তী শুনানিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, কেন এবং কার নির্দেশে আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন পালন হয়নি। এখন দেখার রাজ্য সরকার বিস্তারিতভাবে কী জবাব দেয়।

google button