সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) প্রদানের প্রক্রিয়া একধাপ এগোল। স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে ভাতা প্রদানের নির্দিষ্ট পদ্ধতি জানতে চেয়েছে রাজ্যের অর্থ দফতর (Government of West Bengal)। আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কী বলা হল বিজ্ঞপ্তিতে?
অর্থ দফতরের চিঠিতে কড়া নির্দেশ
আসলে রাজ্যজুড়ে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর গত ১ এপ্রিল নবান্নে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর এই বৈঠকের রেশ টেনেই এবার অর্থ দফতর জানতে চাইছে, ঠিক কোন পদ্ধতিতে শিক্ষক থেকে শুরু করে শিক্ষা কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা বা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পৌঁছবে। বিশেষ করে বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্যই এবার এসওপি তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যে উচ্চশিক্ষা দফতর রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং সরকার পোষিত বিদ্যালয়ের কাছে কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিনের বকেয়া এবং অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে গত ১৩ মার্চ সরব হয়েছিলেন শিক্ষকদের একাংশ। শুক্রবার নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করার আবেদন জানানো হয়। এমনকি অর্থ দফতর স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দফতরকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, আগামী সোমবারের মধ্যেই সম্ভাব্য খরচের হিসাব জমা দিতে হবে।
তবে অর্থ দফতরের এই চিঠির পর শিক্ষক মহলে নতুন করে আবারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ১ এপ্রিলের বৈঠকে এসওপি তৈরি করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ১০ দিন পার হয়ে গেলেও কোনও কাজ হয়নি। তবে সরকারি আধিকারিকদের একাংশের মতে, বর্তমানে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনের কারণে বহু সরকারি আধিকারিক ও কর্মী ভোটের কাজে ব্যস্ত। সে কারণেই বিলম্ব হচ্ছে। যদিও খুব দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ হবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।












