তৃণমূল ছাড়ার জল্পনার মাঝেই শুভেন্দুর বৈঠকে কাকলি! জল্পনা তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক বৈঠক! উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি এবং নদিয়া, এই ৩ জেলা নিয়ে হচ্ছে বৈঠক। দলের সমস্ত সাংসদ, বিধায়কদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বিরোধী দলের সাংসদ-বিধায়কদের। যা গত ১৫ বছরে কোনোদিনও হয়নি, আর সেই বৈঠকে যোগ দিলেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। স্বাভাবিকভাবেই এই নজিরবিহীন ঘটনায় রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

৩ জেলা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে পালাবদলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, এবার থেকে সমস্ত প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হবে বিরোধী দলের সাংসদ-বিধায়কদের। অর্থাৎ পূর্বতন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বয়কটের রাজনীতি’র উল্টো পথে হেঁটেই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি, আর সেটি এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, মঙ্গলবার, কল্যাণীতে উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি এবং নদিয়া, এই ৩ জেলা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। পাশাপাশি উপস্থিত হয়েছেন আরও তিন তৃণমূল বিধায়ক।

কাকলি যোগদান নিয়ে বিতর্ক

উল্লেখ্য, তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে একাধিক সমালোচনা বিতর্ক শুরু হয়েছে। বারাসতের তিন তিনবার সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি লোকসভাতেও তাঁকে মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ করা হয়েছিল কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে দলের বড় বিপর্যয়ের পর ওই পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চিফ হুইপের দায়িত্ব পান বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং গত রবিবারই দলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। শোনা যাচ্ছিল খুব শীঘ্রই হয়তো তৃণমূল ছাড়তে পারেন তিনি। এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে কাকলির যোগদানকে নিয়ে শুরু হল আরেক বিতর্ক।

আরও পড়ুন: উস্কানিমূলক মন্তব্যে এবার অমিত শাহ! FIR চেয়ে থানায়, অভিযোগ নিল না পুলিশ!

প্রসঙ্গত, প্রশাসনিক বৈঠককে ঘিরে নানা সমালোচনার মাঝেই জানা গিয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মন্ত্রিসভা নিয়েই বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগে বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে ৪০ জনের মন্ত্রী তালিকা পাঠানো হয়েছিল বিজেপি কেন্দ্র নেতৃত্বও প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে। এবার সেই তালিকা নিয়ে আলোচনার জন্য দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।