ট্রেনের তোয়ালে, চাদর চুরি করলেই বেজে উঠবে অ্যালার্ম! বেডরোলে চিপ বসাবে রেল

Published:

Indian Railways Bedroll Management

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ট্রেনের এসি কোচের (AC Coach) পরিষেবায় বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল (Indian Railways)। এবার এসি কোচের কামরা থেকে কম্বল, চাদর, তোয়ালে বা বালিশের কভার চুরির দিন শেষ হতে চলেছে। রেলওয়ে বোর্ড তাদের বেডরোল (লিনেন) ব্যবস্থাপনাকে উন্নত প্রযুক্তির সাথে সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেডরোলের (Bedroll) সামগ্রীতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা আরএফআইডি (RFID) চিপ বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রেলের তরফে। এই প্রযুক্তি এক ঢিলে দুই পাখি মারবে। রেলের সাথে সাথে সুবিধা হবে যাত্রীদেরও। এটি শুধু প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার চুরিই আটকাবে তা-ই নয়, তার সাথে কড়া ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে যাত্রীরা নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত কম্বল ব্যবহার করার দুশ্চিন্তা থেকেও মুক্তি পাবেন।

চুরি আটকানোর নয়া কৌশল রেলের

কম্বল ও চাদরে আরএফআইডি চিপ লাগানো তো হবেই, তার সাথে ট্রেনের এক্সিট গেটে অদৃশ্য সেন্সরও স্থাপন করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। যদি কোনো যাত্রী ব্যবহারের জন্য দেওয়া সামগ্রী ব্যাগে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ট্রেনের  গেটের কাছে আসতে না আসতেই সেন্সরটি সক্রিয় হয়ে উঠবে, সঙ্গে সঙ্গে একটি উচ্চস্বরের হুটার বেজে উঠবে এবং সহজেই চোরকে ধরা যাবে। ভারুটিউবরেলওয়ে বোর্ডের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মুম্বাইয়ের সেন্ট্রাল এবং ওয়েস্টার্ন ডিভিশন রাজধানী (Rajdhani Express) এবং আগস্ট ক্রান্তি এক্সপ্রেসের (August Kranti Tejas Rajdhani Express) মতো প্রিমিয়াম ট্রেনগুলিতে বেডরোল ম্যানেজমেন্টের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। রেলওয়ে বোর্ড এই পরিকল্পনার পরিধি অন্যান্য ট্রেনের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রেলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ভারতীয় রেল প্রতি বছর প্রায় ১৪ থেকে ১৫ কোটি বেডরোল ট্রেনে সরবরাহ করে, যার মধ্যে থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ সামগ্রী চুরি হয়ে যায়। এর মধ্যে তোয়ালে এবং চাদর চুরি হওয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রেলওয়ের অভ্যন্তরীন পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা গেছে, প্রিমিয়াম দূরপাল্লার ট্রেনগুলি যখন চূড়ান্ত গন্তব্যে বা কোনো টার্মিনাল স্টেশনে পৌঁছায়, তখন চুরি হয় সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন যে,  এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করতে খরচ খুব বেশি হবে না।

আরও পড়ুনঃ বানভাসি কলকাতা! দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলায় ভারী বৃষ্টির ভ্রূকুটি, আবহাওয়ার খবর

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, একটি বেডরোলে চিপ লাগানোর খরচ মাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকা। আর কোচ বা স্টেশনে স্ক্যানার সিস্টেম স্থাপন করতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। চুরির ফলে রেলের বার্ষিক যে ক্ষতি হয়, তার তুলনায় এই খরচ অনেক কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেডরোল চুরি হওয়ার ফলে রেলওয়ের প্রতি বছর ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বেসরকারি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত ট্রেনগুলিতে চুরি হওয়া সামগ্রীর ক্ষতিপূরণ কাটা যায় অ্যাটেনডেন্টদের মাইনে থেকে।