অনন্যা সরকার, কলকাতা: কঠোর পরিশ্রম, অনুশীলন ও নিষ্ঠার জোরে মানুষ যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। গরিমা আগরওয়াল (UPSC Success Story of IAS Garima Agarwal) তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাধারণ পরিবারে জন্ম, হিন্দি মাধ্যমে পড়াশোনা – কোনো কিছুই গরিমার সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আইএএস অফিসার হওয়ার সংকল্প পূরণের জন্য বিদেশী চাকরিও ছেড়ে দেন। দেশের অন্যতম কঠিন ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস (UPSC CSE) পরীক্ষায় একবার নয়, দু’বার উত্তীর্ণ হয়েছে। তিনি প্রথম অ্যাটেম্পটে আইপিএস অফিসার হওয়ার পর দ্বিতীয় চেষ্টায় তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়। আসুন গরিমা আগরওয়ালের এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
বিদেশী চাকরিকে না বলে আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ গরিমার
মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট শহর খারগোনের বাসিন্দা গরিমা আগরওয়াল সরস্বতী বিদ্যা মন্দির থেকে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। হিন্দি মাধ্যমে পড়াশোনা করতেন গরিমা, তবে পরীক্ষার ফল ছিল দুর্দান্ত। দশম শ্রেণিতে ৯২ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৮৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করেন। পারিবারিক ব্যবসা থাকেলও, গরিমা নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছিলেন।
স্কুল শেষ করে গরিমা জেইই (JEE) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইআইটি হায়দ্রাবাদে (IIT Hyderabad) ভর্তি হন। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালীন তিনি জার্মানিতে একটি ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান, যা তাঁর কর্মজীবনের একটি বড় সুযোগ হয়ে সামনে এসেছিল। বিদেশে তাঁর জন্য একটি সম্ভাবনাময় ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যারিয়ারের দরজা খুলে গেলেও তার স্বপ্ন ছিল অন্য।
জার্মানিতে ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর আইএএস হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনে। বিদেশের আরামদায়ক চাকরি দূরে সরিয়ে শুরু করেন কঠিন ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি। প্রায় দেড় বছর কঠোর পরিশ্রম করে ২০১৭ সালে প্রথম চেষ্টাতেই ক্র্যাক করেন ইউপিএসসি। সে বছর তার সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ছিল ২৪০, তবে এই র্যাঙ্কটি আইপিএস (IPS)-এ প্রবেশের পথ খুলে দিলেও, তার স্বপ্ন এখনও অধরা ছিল।
আরও পড়ুনঃ কংসাবতীর তীরে প্রকৃতি ও নির্জনতার অনন্য মিলন, বর্ষায় ঘুরে আসুন হাতিপাথর
তাই, গরিমা আইপিএস-এর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইউপিএসসি-র প্রস্তুতিও চালিয়ে যান। ২০১৮ সালে আবার পরীক্ষা দেন এবং এবার তিনি সারা ভারতের মধ্যে ৪০তম র্যাঙ্কটি অর্জন করে নেন। পূর্ণ হয় তাঁর আইএএস অফিসার হওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। গরিমা আগরওয়ালের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, লক্ষ্যে অবিচল থেকে চেষ্টা করে গেলে সাফল্য আসবেই। আজ বহু ইউপিএসসি অ্যাসপিরেন্টের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি।










