সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে শেষ পর্যন্ত বড়সড় পদক্ষেপের পথে হাঁটল আমেরিকা। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ঘোষণার পর আজ অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ শুরু হচ্ছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যস্থতায় বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত যে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় যুদ্ধের (Iran-United States War) দামামা বাজাচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেক্ষেত্রে সবথেকে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে তেলের দাম!
কখন থেকে শুরু হচ্ছে এই অবরোধ?
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভারতীয় সময় অনুযায়ী আজ অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট থেকে হরমুজ প্রণালীতে এই অবরোধ কার্যকর হবে। ট্রাম্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মার্কিন রণতরিগুলি এই জলপথে কড়া নজরদারি করবে। এমনকি সেক্ষেত্রে আটকে যাবে একাধিক দেশের জাহাজ, যার মধ্যে ভারত অন্যতম।
কাদের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে?
আমেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, এই অবরোধ নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যের উপরেই ভিত্তি করা হবে। সেক্ষেত্রে যে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের কোনও বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করবে বা ইরানি বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে বেরিয়ে আসবে, সেগুলোকেই আটকানো হবে। এমনকি আরব উপসাগর,ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রতিটি বন্দরের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, যে জাহাজগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই এবং যারা কেবলমাত্র হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে অন্য দেশে যাতায়াত করবে, তাদের পথে মার্কিন সেনা কোনও রকম বাধা সৃষ্টি করবে না বলেই জানানো হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে আঁচ করা যাচ্ছে যে, ভারত এই নিষেধাজ্ঞায় চরমভাবে প্রভাবিত হবে।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য ইরানকে যে ট্রানজিট শুল্ক দেওয়া হচ্ছে তা সম্পূর্ণভাবেই বেআইনি। যারা এই শুল্ক দেবে তাদের কাউকেই রেহাত দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সংঘাতের সময় ইরান এই জলপথে যে সমস্ত মাইন বিছিয়ে রেখেছিল, মার্কিন নৌবাহিনী সেগুলোকেই ধ্বংস করার কাজ শুরু করেছে। ট্রাম্পের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, শান্তিপূর্ণ জাহাজের উপর হামলা চালালে আমরা তাদেরকে নড়কে পাঠিয়ে দেবো।
আরও পড়ুন: দারুণ লুক ও ফিচার্স, নয়া অবতারে ফিরছে বাজাজের Pulsar 180
এদিকে আমেরিকার এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড। তেহরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ সরাসরি আমেরিকার উদ্দেশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তোমরা যদি যুদ্ধ চাও আমরাও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তোমরা যুক্তি দিয়ে কথা বললে আমরাও যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করব। তবে হরমুজে কোনও সামরিক জাহাজ এগিয়ে আসলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেহেতু বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক পঞ্চমাংশ পরিবহণ হয়, তাই আজকের এই অবরোধে যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।












