সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চকচকে মুকুট আর গ্লামারের মায়া কাটিয়ে দেশের সুরক্ষায় হাত তুলে নিলেন রাইফেল। হ্যাঁ, সৌন্দর্য আর সাহসের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়ে ইতিহাস গড়েছেন লেফটেন্যান্ট কাশিশ মেথওয়ানি (Kashish Methwani)। ২০২৩ সালের মিস ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া জয়ী এই সুন্দরী আজ ভারতীয় সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্টের এক গর্বিত অফিসার (Army Officer)।
গ্ল্যামার থেকেই রণসজ্জা
মুম্বাইয়ের কাছে উল্লাসনগরের এক সিন্ধি পরিবারে ২০০১ সালে ৯ জানুয়ারি তাঁর জন্ম। ছোটবেলা থেকে তিনি ছিলেন মেধাবী আর বহুমুখী প্রতিবার অধিকারী। পুণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়ো টেকনোলজিতে মাস্টার্স করেছিলেন এবং বেঙ্গালুরর আইআইএসসি থেকে নিউরো সাইন্সে থিসিস সম্পন্ন করা পর তাঁর সামনে ছিল উজ্জ্বল একাডেমিক কেরিয়ার। এমনকি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করার সুযোগও এসেছিল তাঁর কাছে। তবে তাঁর রক্তে দেশবাসীর প্রতি সেবা বইছিল। ২০২৪ সালের সিডিএস পরীক্ষায় সারা ভারতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে তিনি হার্ভার্ডের অফার এবং অভিনয়ের প্রস্তাব দুই প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রসঙ্গত, কাশিশের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এনসিসি। তিনি কেবল প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেননি, বরং প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির হাত থেকেই তিনি অল ইন্ডিয়া বেস্ট ক্যাডেট ট্রফি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর কথায়, মোদির হাত থেকে সেই ট্রফি গ্রহণ করার মুহূর্তেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে, আমার আসল জায়গা কোনও ফিল্মি সেট নয়, বরং ভারতের সেনাবাহিনী।
ये हैं लेफ्टिनेंट कशिश मेठवानी।
– 2001 में जन्मीं।
– पुणे में पली-बढ़ीं और बायोटेक्नोलॉजी में मास्टर डिग्री पूरी करने के लिए कड़ी मेहनत की।
– 2023 में मिस इंटरनेशनल इंडिया का टाइटल जीता।
– मॉडलिंग और एक्टिंग में कई ऑफर मिले, लेकिन मना कर दिया।
– इंडियन आर्मी ऑफिसर बनकर देश की… https://t.co/m8lkz6i0OE pic.twitter.com/nUzqhKT3TV— Sainidan. Ratnu. Ex. Adm.Judicial Officer (@Sainidan1) April 11, 2026
আরও পড়ুন: ঢুকবে না গরম হাওয়া, বাড়বে নিরাপত্তাও, এবার লোকাল ট্রেনেও অটোমেটিক দরজা
এদিকে চেন্নাইয়ের অফিসার ট্রেনিং একাডেমিতে ১১ মাসের হাড়ভাঙা প্রশিক্ষণ শেষ করেন তিনি। কাশিশ প্রশিক্ষণের তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বও বজায় রাখেন। মার্চ এন্ড শুটে গোল্ড মেডেল থেকে শুরু করে সেরা শ্যুটিং স্কোর এবং ড্রিল ব্যাজ প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি শীর্ষস্থান দখল করেছিলেন। বর্তমানে উত্তর ভারতে মোতায়েন রয়েছেন তিনি। সবথেকে বড় ব্যাপার, কেবলমাত্র পড়াশোনা বা খেলাধুলাই নয়, বরং তিনি ভারতনাট্যম শিল্পী, জাতীয় স্তরের পিস্তল শ্যুটার আর বাস্কেট বল খেলোয়াড়। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় তিনি ক্রিটিক্যাল কজ নামের একটি এনজিও শুরু করেন, যার মাধ্যমে প্লাজমা এবং অঙ্গদানে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা হয়।










