সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নাসিকের টিসিএস (Tata Consultancy Services) অফিসে মহিলা কর্মীদের উপর মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে ধর্মান্তরণের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় গোটা দেশ। আর সেই অভিযোগে এবার মূল অভিযুক্ত নিদা খান (Nida Khan TCS Case) আইনি লড়াইয়ের পথে নামলেন। মামলার পর থেকে পলাতক থাকা নিদা তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমেই নাসিক আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন। তবে আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং সেই কারণেই তিনি নাকি আদালতের কাছে মানবিক ক্ষেত্রে স্বস্তি চাইছেন!
মুম্বাইয়ে আত্মগোপন করে জামিন টার্গেট নিদা খানের
উল্লেখ্য, পুলিশি অভিযানের মুখে মোবাইল ফোন ফেলে পালিয়ে যাওয়া নিদা খান বর্তমানে মুম্বাইতে রয়েছেন বলেই জানাচ্ছেন তাঁর আইনজীবী। সেখান থেকেই তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে নাসিক আদালতের দারস্থ হয়েছেন। প্রসঙ্গত, টিসিএস এর বিপিও ইউনাইটেড টেলিকলার হিসেবে কর্মরত নিদার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ উঠছে তা সত্যিই আঁতকে ওঠার মতো। অফিসের নির্যাতিতারা যখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হেনস্থার অভিযোগ জানাতে যেতেন, ঠিক তখনই নিদা নাকি তাঁদের নীরুৎসাহিত করতেন, আর ‘এরকম ঘটনা ঘটেই থাকে’ বলে অভিযুক্তদেরকে আড়াল করার চেষ্টা করতেন!
এদিকেই মামলায় এখনও পর্যন্ত দানিশ শেখ থেকে শুরু করে তৌসিফ আত্তার, রজা মেমন সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করে ফেলেছে নাসিক থানার পুলিশ। আর ধৃতদের মধ্যে ওই বিপিও ইউনিটের অপারেশন হেডও রয়েছেন বলে খবর। এদিকে বিশেষ তদন্তকারী দল এসআইটি জানাচ্ছে যে, অভিযুক্তরা তাদের পদের অপব্যবহার করেই সহকর্মীদের উপরে শারীরিক ও ধর্মীয় চাপ সৃষ্টি করত। এমনকি জোর করে মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ উঠত।
এদিকে গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখর। তিনি এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলেই দাবি করেন। টাটা গ্রুপের পক্ষ থেকে সংস্থার সিইও আরতি সুব্রহ্মণ্যমের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর তাঁরা খতিয়ে দেখছেন যে, কীভাবে এইচআর এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাকের ডগা দিয়েই অফিসের ভেতরে এরকম কুচক্র চলছিল। এদিকে তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। কেবলমাত্র মহিলা কর্মীরা নন, বরং এক পুরুষ কর্মীকেও নাকি কর্মস্থানে হেনস্থা ও জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এসআইটির স্পষ্ট দাবি, মোট সাতজন পুরুষ এবং দুইজন মহিলা কর্মী এই চক্রের সাথে জড়িত।
আরও পড়ুন: ভোটের আগে বাংলায় ৪১৭ কোটি বাজেয়াপ্ত! উদ্ধার মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র
এদিকে নিদা খানের আগাম জামিনের আবেদন নাসিক আদালতে অপেক্ষার তালিকাতেই রয়েছে। পুলিশের দাবি, নিদা ধরা পড়লে এই চক্রের সঙ্গে কোনও বিদেশী ফান্ডিং বা বড় কোনও সংস্থা জড়িত রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট সামনে আসবে। পাশাপাশি অশ্বিনী চৈনানি নামে অপর এক মহিলা অভিযুক্ত ইতিমধ্যে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এখন দেখার নিদা খানের জামিন মঞ্জুর হয় নাকি পুলিশি গেঁড়োয় পড়েন।










