মোদীর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ ৭০০ শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মীর

Published:

Narendra Modi

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের প্রাক্কালে ক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। আর এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) কাছে নালিশ ঠুকল প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিকসহ ৭০০ জনেরও বেশি নাগরিক। চাপের মুখে বিজেপি।

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদীর ভাষণ

রিপোর্ট মোতাবেক গত শনিবার, ১৮ এপ্রিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে নারী সুরক্ষার বিল সংক্রান্ত একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানে মোদী অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর সরকার ২০২৯-এর লোকসভার নির্বাচন থেকে লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করে তার তিন ভাগের এক ভাগ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করতে চাইছিল। কিন্তু বিরোধীদের কারণে সেই বিল পাশ হয়নি। এই কারণে ৩০ মিনিটের ভাষণের পুরো সময়টাই তিনি কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে-কে মহিলা সংরক্ষণের বিরোধী বলে দোষারোপ করেন। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ সকলে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ মোদীর বিরুদ্ধে

বিরোধীদের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দূরদর্শন, সংসদ টিভি থেকে সমস্ত সরকারি মাধ্যম ব্যবহার করে একপ্রকার বিজেপির প্রচার চালিয়েছেন। এদিকে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর বিধানসভা ভোটের জন্য নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি জারি রয়েছে। তাই সেক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণ করতে পারেন না। কারণ বিরোধী নেতাদের কাছে সেই সুযোগ নেই। তাই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নজীব জং, রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ পরকাল প্রভাকর, কর্মী যোগেন্দ্র যাদব, অর্থনীতিবিদ জয়তি ঘোষ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ইএএস সরমা, অ্যাক্টিভিস্ট হর্ষ মান্দর, সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা, প্রাক্তন সভাসদ ভারসাদ ও যোদ্ধা হাসান প্রমুখ। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কমিশনের কাছে চিঠি লিখেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে আধ ঘন্টার বক্তৃতায় ৫৯ বার কংগ্রেসের নাম করেছেন।

ক্ষুব্ধ মমতাও

গত রবিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগও তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হুগলির তারকেশ্বরের জনসভা থেকে দাবি করেছিলেন যে, নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আসলে বিজেপির হয়ে একটি ‘অবৈধ রাজনৈতিক প্রচার’। প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, “আপনি জাতির উদ্দেশে ভাষণের নামে নিজের দলের হয়ে বেআইনি প্রচার চালাচ্ছেন। এর জবাব আপনাকে দেশের মানুষের কাছে দিতে হবে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

আরও পড়ুন: গুরুত্বপূর্ণ ১৫০ ঘণ্টা, বাংলা নিয়ে বৈঠক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর! বড় কিছু করার প্ল্যান? সতর্ক তৃণমূল

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলওয়ামার শহিদ জওয়ানদের নামে ভোট চাওয়ার জন্য আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু সেই সময় নির্বাচন কমিশন কোনও পদক্ষেপ করেনি। এমনকি ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে মোদী অভিযোগ করেছিল যে কংগ্রেস দেশের সম্পদকে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিতে চায়। সেখানেও মোদীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু কমিশন মোদীকে নোটিস না পাঠিয়ে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডাকে নোটিস পাঠিয়েছিল। এখন দেখার এই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।