সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে কেন্দ্র সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক স্কলারশিপ চালু করেছে। ঠিক তেমনই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে চালু হয়েছিল ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ (Aikyashree Scholarship), যেখানে পোস্ট ম্যাট্রিক এবং প্রি-ম্যাট্রিক দু’কম ভাবে সাহায্য করা হতো। তবে রাজ্যে সরকারের পালাবদল হতেই এই স্কলারশিপের নাম বদল করা হলো, এবং নতুন নাম রাখা হয়েছে এনএসপি-ডব্লিউবি স্কলারশিপ। কিন্তু সুবিধা কি একই রাখা হয়েছে, নাকি কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে? বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।
বদলে গেল ঐক্যশ্রী স্কলারশিপের নাম
এখন ঐক্যশ্রী স্কলারশিপের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে এনএসপি-ডব্লিউবি স্কলারশিপ, যেটি ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টালের আওতায় থাকছে। তবে হ্যাঁ, ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে স্কলারশিপের নিয়মে কোনও রকম পরিবর্তন করা হয়নি। স্কুলস্তর পর্যন্ত এই স্কলারশিপের রূপরেখা আগের মতোই থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রি-ম্যাট্রিক লেভেলের ক্ষেত্রে কী সুবিধা?
বিদ্যালয় স্তরে যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করে তাদের ক্ষেত্রে দেওয়া হয় প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ। তবে এতে সেরকম কোনও বদল আনা হয়নি। কিন্তু শুধু নামটা পরিবর্তন হয়েছে এবং আগের নিয়মে সংখ্যালঘুরা এই স্কলারশিপের সুবিধা পাবে। এক্ষেত্রে নবম এবং দশম শ্রেণীতে পঠরত ছাত্রছাত্রীরা বছরে সর্বোচ্চ ১০,৭০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবে। যার মধ্যে ভর্তির ফি, টিউশন ফি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে অবশ্যই পূর্ববর্তী পরীক্ষায় নূন্যতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। আর পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে হবে।
পোস্ট ম্যাট্রিক স্কলারশিপে কী সুবিধা?
পোস্ট ম্যাট্রিক মূলত একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণী এবং কলেজে যারা পড়াশোনা করে বা পিএইচডি স্তর পর্যন্ত অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য। তাছাড়া টেকনিক্যাল বা ভোকেশনাল শিক্ষার্থীরাও এখানে সুবিধা পায়। এই স্কলারশিপের আওতায় বছরের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা করা হয়। যার মধ্যে ভর্তির ফি, টিউশন ফি বা অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে, এবং এক্ষেত্রে আগের পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হয় আর পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হয় ২ লক্ষ টাকার মধ্যে।
আরও পড়ুন: মাসে মিলবে ৩০০০ টাকা, যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কীভাবে আবেদন করবেন আর কী কী ডকুমেন্ট লাগে?
এই স্কলারশিপে সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমেই আবেদন করা যায়। এছাড়া অফলাইনও আবেদনের সুবিধা রয়েছে। তবে অনলাইনে আবেদন করার জন্য যে ডকুমেন্টগুলি দরকার পড়ে সেগুলি হল—
- নিজের বৈধ মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল আইডি।
- পরিচয়ের প্রমাণপত্র হিসেবে আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড।
- ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের জেরক্স কপি।
- আগের পরীক্ষার মার্কশীট।
- পরিবারের বার্ষিক আয়ের সার্টিফিকেট।
- পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির রিসিপ্ট কপি।










