সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের ধাক্কা খেল ভারতীয় রুপি (Indian Rupee)। বুধবার বাজার খোলার পরপরই মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে টাকার দাম কমতে শুরু করেছে এবং সকালের দিকে তা রেকর্ড ৯৩.৮ এর স্তরে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা আর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির ধারাই টাকার রেকর্ড পতনের কারণ। এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের।
আজ ভারতীয় রুপির বাজার দর
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম ছিল ৯৩.৪৮ টাকা। তবে বুধবার সকালে ৯৩.৬৯ টাকা থেকে শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা আরও কমে ৯৩.৮০৮ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, একদিনেই টাকার দাম প্রায় ০.৩৫ শতাংশ কমেছে। পিটিআই-র রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মূলধন তুলে নেওয়া আর দেশীয় বাজারে শেয়ার বিক্রির হিড়িক টাকার উপরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, টাকার এই পতনের পেছনে বিশ্ব রাজনীতির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। প্রথমত, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ৯৭.৭০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। আর ভারত তাদের প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ যেহেতু আমদানি করে, তাই তেলের দাম বাড়লে দেশীয় মুদ্রার উপরে চাপ পড়ে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রাখার কারণে তেলের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। যার ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছেন। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, বুধবার সকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এই বিরতির কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না থাকার কারণে এবং মার্কিন সেনার অবরোধ জারি থাকার কারণে ব্যবসায়ীদের ডলার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাড়বে জ্বালানি নিরাপত্তা, রুশ তেল কিনতে এবার মোক্ষম চাল ভারতের
অন্যদিকে বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার সাপেক্ষে মার্কিন ডলারের সূচক সামান্য কমে ৯৮.২৭৬ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তেলের বাজার অস্থিতিশীল থাকার কারণে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকার কারণে চাহিদা এখনও পর্যন্ত শক্তিশালী। আর ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমে যাওয়া মানেই বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে ভারতকে বেশি পরিমাণ টাকা খরচ করতে হবে। যার ফলে আগামী দিনে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।










