‘হিন্দু ছাড়া কারও প্রবেশ নয়’ শুদ্ধিকরণ করে কঙ্কালীতলায় টাঙানো হল পোস্টার

Published:

Kankalitala Temple

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকাল মিটেছে বাংলার ভোট পর্ব। নতুন সরকার ক্ষমতায়। তবে ভোট মিটতেই বীরভূমের (Birbhum) অন্যতম সতীপীঠ কঙ্কালীতলা মন্দির (Kankalitala Temple) চত্বরে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। মঙ্গলবার সকালে বিজেপির একদল নেতা কর্মীর হাতে দুধ, গঙ্গাজল এবং গেরুয়া পতাকা নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গনে উপস্থিত হন। তাঁদের দাবি, মন্দিরের প্রাচীন পবিত্রতা এবং আচার অনুষ্ঠান ফিরিয়ে আনতেই নাকি তাঁদের এই শুদ্ধিকরণ কর্মসূচি।

তবে এদিন শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার পর মন্দিরের প্রবেশপথে একটি হোডিং টাঙিয়ে দেওয়া হয়। আর সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে “জয় মা কঙ্কালী। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ ছাড়া বিধর্মীদের মন্দিরে প্রবেশ কঠোরভাবেই নিষিদ্ধ।” কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বদের দাবি, মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ আর ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা করার জন্য এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।

মন্দিরের ট্রাস্ট এবং অর্থ নিয়েও অভিযোগ

তবে শুধুমাত্র প্রবেশাধিকার নয়, বরং মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপির কর্মীরা। সেবায়েতদের একাংশ অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে মন্দির ট্রাস্টের অর্থ নিয়ে নানা রকম অনিয়ম চলছিল। আর পঞ্চায়েতের তরফ থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলা হতো। তবে বিজেপি নেতারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই সমস্ত আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করা হবে।

তবে পুরোহিত এবং সেবায়দদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিজেপির নেতারা স্পষ্ট জানান যে, এখন থেকে মন্দিরে পূজো দেওয়া কিংবা প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রাচীন ধর্মীয় নিয়ম কঠোরভাবেই মেনে চলতে হবে। আর বিশেষ করে গর্ভগৃহে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা বরদাস্ত করা যাবে না। ভবিষ্যতে হিন্দু ছাড়া অন্য কোনও ধর্মের মানুষ যাতে মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করার জন্যই এবার সেবায়তদের উপরে বাড়তে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ফলপ্রকাশের রাতেই অশান্তি, হাওড়ায় পিটিয়ে খুন বিজেপি কর্মী, গ্রেফতার ১

তবে এদিনের কর্মসূচির মাঝে এক সেবায়েত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান যে, নির্বাচনের সময় নানুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী খোকন দাসের সমর্থনে পূজা দেওয়ায় তাঁকে নাকি হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির স্বাভাবিক বলেই দাবি তাঁর।