বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যের আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছে (West Bengal Election)। জনতার বিচারে বাংলার সিংহাসন পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সেই মতোই, বঙ্গে দ্রুততার সাথে সরকার গঠনের তোরজোর চালাচ্ছে তারা। এমতাবস্থায় ফলাফল প্রকাশের ঠিক পরের দিন অর্থাৎ আজ, কালীঘাট থেকে সাংবাদিক বৈঠক করলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভোট গণনা নিয়ে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন মমতা এও বললেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বড় মন্তব্য মমতার
মঙ্গলবার, কালীঘাট থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের একেবারে এক হাত নিলেন মমতা। রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “1972 সালের সন্ত্রাসের কথা শুনেছি। চোখে দেখিনি। তবে এই সরকার সবকিছু ছাড়িয়ে গিয়েছে।” মমতার বক্তব্য, 2004 সালেও তিনি এমন সন্ত্রাস দেখেননি! এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা জানালেন, গণনা শুরু হওয়ার পর থেকে সংবাদমাধ্যমে দেখিয়েছে বিজেপি 200 এর বেশি আসন পেয়ে গিয়েছে। তারপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয়।
মমতার অভিযোগ, বিজেপির লোকজন গণনা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। তিনি 13 হাজার ভোটে লিড দিচ্ছিলেন। তাঁর 31 হাজারেরও বেশি ভোটে জেতার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গণনা কেন্দ্রে বিজেপির লোকজন ঢুকে ওলট-পালট করে দিয়ে গেছে। তাঁকে মারধর করা হয়েছে। এদিন রাজ্যের বিদায় মুখ্যমন্ত্রী একেবারে সরাসরি বলেন, কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট, বিচার ব্যবস্থা নেই। কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে! মমতার কথায়, “মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনও দল করতে পারে? এমনটা ভাবাও যায় না!”
অবশ্যই পড়ুন: বিজেপির সরকার শুরুর আগেই বঙ্গে বিশেষ দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
বাংলার আমজনতা একেবারে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তৃণমূল সরকারকে সরিয়েছে। সে কথা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এক কথায়, জনতার বিচারে রাজ্যের ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু তা সত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর পর থেকেই ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানালেন, “কেন পদত্যাগ করতে যাব? আমরা তো হারিনি! যখন হারিনি তখন ইস্তফার প্রশ্ন উঠছে কেন? জোর করে দখল করে কেউ যদি মনে করে আমি ইস্তফা দিতে যাব, না.. এমনটা হবে না।” তৃণমূল সুপ্রিমোর এমন বক্তব্যের পরই মাননীয়ার সমালোচনায় সরব হয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও!










