সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের টেলিকম দুনিয়ায় বিপ্লব ঘটানোর পর এবার মহাকাশ দখলের লড়াইতে নেমেছে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries)। হ্যাঁ, এলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক এবং অ্যামাজনের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার যোগ্য জবাব দিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পথে হাঁটছে এবার ধনকুবের মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani)। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে কয়েক হাজার স্যাটেলাইট পাঠিয়ে নিজস্ব ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক তৈরি করাই এখন রিলায়েন্সের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করছে বেশ কিছু রিপোর্ট।
জিও প্ল্যাটফর্মের বিরাট বাজি
আসলে রিলায়েন্সের এই স্যাটেলাইট ব্যবসাটি পরিচালিত হবে জিও প্ল্যাটফর্মের আওতায়। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই ছয়টি আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। যারা স্যাটেলাইট তৈরি, উৎক্ষেপণ এবং ইউজার টার্মিনাল বা গ্রাহকদের ডিভাইসের মতো বিভিন্ন দিকগুলি খতিয়ে দেখছে।
বর্তমানে এই ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থাগুলির একছত্র আধিপত্য বিস্তার রয়েছে। তবে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে বিদেশের উপরে নির্ভরশীল থাকা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ভারত সরকারও চাইছে, এই ক্ষেত্রে দেশীয় কোনও সংস্থা যাতে উঠে আসে সেই ব্যবস্থা করতে। চিন ইতিমধ্যেই প্রায় ২ লক্ষ স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে চাইছে না আম্বানি গোষ্ঠী।
এদিকে এই মেগা প্রজেক্টের নেতৃত্বের দায়িত্ব রয়েছেন মুকেশ আম্বানি নিজে। এছাড়াও জিওর শীর্ষ অধিকারীক পিকে ভাটনগর, ম্যাথিউ ওমেন এবং আয়ুষ ভাটনগর এই প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আর গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। এমনকি ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের থেকে কক্ষপথের স্লট পাওয়ার প্রক্রিয়াও ইতিমধ্য শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে মহাকাশ থেকে সরাসরি ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়ার এই বাজারে জিওর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবে এলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক। কারণ, মাস্কের মালিকানাধীন এই সংস্থাটি বর্তমানে গোটা বিশ্বের সবথেকে বড় প্লেয়ার। দ্বিতীয়ত রয়েছে জেফ বেজোসের অ্যামাজন লিও। তারাও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। এছাড়া প্রতিযোগিতায় রয়েছে ইউ টেলস্যাট ওয়ান ওয়েব।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণাবর্তের দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগ! ৬০ কিমি বেগে বইবে ঝড়, আগামীকালের আবহাওয়া
কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে?
রিলায়েন্সের পরিকল্পনা মারফত, আগামী দুই থেকে চার বছরের মধ্যেই তারা কক্ষপথে নিজস্ব স্যাটেলাইট ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারে। যার জন্য জিও কোনও ছোট স্যাটেলাইট সংস্থাকে কিনে নিতে পারে। অথবা নিজস্ব প্রযুক্তিতে স্যাটেলাইট তৈরি করতে পারে। আর ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং দেশীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থার সম্ভাব্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।










