সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্যের মহিলাদের মনে একটাই প্রশ্ন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড (Matrishakti Bharosa Card) প্রকল্প কবে থেকে শুরু হবে? আর কবে থেকেই বা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা মিলবে? সবথেকে বড় ব্যাপার, আবেদন করতে কী কী যোগ্যতা লাগবে, কীভাবে আবেদন করতে, সবটাই জানাবো এই প্রতিবেদনে।
চালু হচ্ছে মাত্র শক্তি ভরসা কার্ড
উল্লেখ্য, বিগত ১৫ বছরের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের চালানো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বিকল্প হিসেবেই এই স্কিমটি আনছে বিজেপি। লক্ষীর ভাণ্ডারে যেখানে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হতো, সেখানে এবার ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সামাজিক শ্রেণীর ভিত্তিতে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো। সেখানে মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডে প্রতিটি মহিলা ৩০০০ টাকা করে সাহায্য পাবে। অর্থাৎ বলতে গেলে, প্রতি মহিলা বছরে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবে। আর এত যে মহিলারা স্বাবলম্বী হতে পারবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কী কী যোগ্যতা লাগবে এই প্রকল্পে আবেদন করতে?
যদিও এখনও পর্যন্ত স্কিমটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের তরফ থেকে চালু করা হয়নি। কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো এই প্রকল্পে আবেদন করতে কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। যেমন—
- আবেদনকারী মহিলাকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ বছর কিংবা তার বেশি।
- আবেদনকারীকে সরকার নির্ধারিত আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
- পরিবারের বার্ষিক আয়ের সীমা বেশি হওয়া চলবে না।
- আবেদনকারী আধার নম্বরের সঙ্গে বৈধ মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকতে হবে।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া
উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে যারা ভাতা পেতেন তাদের সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টেই এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে এখনও নতুন সরকার তরফ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে এও শোনা যাচ্ছে যে, স্কিম চালু হওয়ার পর হয়তো যোগ্য মহিলাদেরকে আবারও সরকারি ক্যাম্প, অনলাইন পোর্টাল বা স্থানীয় প্রশাসনিক অফিসে গিয়ে নতুন করে আবেদন জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: সোনা কেনা বন্ধ করুন, ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ! কেন এমন বললেন প্রধানমন্ত্রী?
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
সরকারের তরফ থেকে এখনও এই স্কিমে আবেদনের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের লিস্ট প্রকাশ করা হয়নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে এখানে আবেদন করতে গেলে আধার কার্ড, বসবাসের প্রমাণপত্র, পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রমাণপত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ইত্যাদি দরকার পড়বে।










