৭২০-র মধ্যে মিলে গেল ৬০০ নম্বর! ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-র প্রশ্ন ফাঁস?

Published:

NEET Question Paper Leak

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট নিয়ে আবারও বড়সড় কেলেঙ্কারির অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, এবার পরীক্ষার আগে পড়ুয়াদের হাতে থাকা একটি প্র্যাকটিস প্রশ্নপত্রের সঙ্গে নাকি আসল পরীক্ষার প্রায় ৮০ শতাংশ প্রশ্ন মিলে যাচ্ছে (NEET Question Paper Leak)। যার ফলে গোটা দেশজুড়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাহলে কি আগেভাগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল নিটের প্রশ্নপত্র?

নিটের প্রশ্নপত্র নিয়ে বিতর্ক

আসলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজস্থানের শিকর জেলা। সেখানে পরীক্ষার বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই একটি গেস পেপার বা সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পড়ুয়াদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানা যায়। বিশেষ করে কোচিং সেন্টারগুলি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এরকম প্রশ্ন তৈরি করে। তবে ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া নিট পরীক্ষায় দেখা যায় যে, ৭২০ নম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৬০০ নম্বরের প্রশ্নই ওই গেস পেপারের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে। এমনকি এমসিকিউ প্রশ্নের অপশনগুলিও পর্যন্ত একই রাখা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা রাজস্থান স্পেশাল অপারেশন সূত্রে খবর, পরীক্ষার দুইদিন আগে থেকে এই প্রশ্নপত্র কেনাবেচা শুরু হয়েছিল। আনুমানিক ২০ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল এক-একটি কপি। আর পরীক্ষার আগের রাতে এক-একটি প্রশ্নপত্র ৩০ হাজার টাকায় দেদার বিকিয়েছে বলেই অভিযোগ।

তবে গোয়েন্দারা এই চক্রের হদিস পেতে গিয়ে এক এমবিবিএস পড়ুয়ার নাম পেয়েছেন। যিনি বর্তমানে কেরালার এক মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করছেন। জানা যাচ্ছে, গত ১ মে ওই পড়ুয়া প্রথমে তাঁর এক বন্ধুকে প্রশ্নপত্র দিয়েছিলেন। তারপর সেখান থেকে বিভিন্ন পিজি কোচিং সেন্টার ও কেরিয়ার কাউন্সিলরদের মাধ্যমে প্রশ্নটি ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি হাতে লেখা ওই প্রশ্নপত্রে পদার্থবিদ্যা, জীববিজ্ঞান, রসায়নের প্রায় ৩০০টি প্রশ্ন ছিল। যার মধ্যে প্রায় ১৪০টি প্রশ্ন হুবহু আসল পরীক্ষায় এসেছে।

আরও পড়ুন: নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে ‘গার্ড অফ অনার’ পুলিশের, শুরু প্রশাসনিক ইনিংস

তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এই বিষয়টি নিয়ে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়ার করা হয়। পুলিশ তদন্তের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু যদি প্রশ্ন ফাঁসের সত্যিই প্রমাণ মেলে, তাহলে পরীক্ষা বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও নিট পরীক্ষায় দেশজুড়ে এরকম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। প্রশ্ন ফাঁস থেকে শুরু করে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছিল। আর এবার ২০২৬ সালেও সেই একই অভিযোগে তোলপাড় গোটা দেশ।