সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ওড়িশা (Odisha) এমন এক জায়গা যেখানে প্রকৃতি রীতিমতো ঢেলে সাজিয়েছে। ওড়িশা মানেই মানুষ বোঝেন সেই পুরী নয়তো কোনারক। কিন্তু আসল ভ্রমণপিপাসুরা ওড়িশা ভ্রমণে গিয়ে অফবিট জায়গা খোঁজেন এবং ঘুরেও আসেন। আজকের এই প্রতিবেদনে আপনাদের তেমনই একটি অফবিট জায়গা সম্পর্কে তথ্য দেব যেখানে একদিন বা দু’দিনের ছুটিতে অনায়াসেই ঘুরে আসতে পারবেন। আজ কথা হবে ওড়িশার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (Odisha Grand Canyon) সম্পর্কে। চলুন বিশদে জেনে নেবেন।
ঘুরে আসুন ওড়িশার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন থেকে
আজ প্রথনেই কথা হবে ওড়িশার সুন্দরগড় জেলার সরফগড় (Sarafgarh) নিয়ে। জায়গাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুন্দরগড় জেলায় অবস্থিত এই স্থানটিতে রয়েছে একটি পরিবেশ-পর্যটন কেন্দ্র, সরফগড় ড্যাম এবং তার আশেপাশের এলাকা, যা চমৎকার মনোরম দৃশ্য উপহার দেয় পর্যটকদের। মিলবে চোখের প্রশান্তি। এই সরফগড়ে অ্যাডভেঞ্চারের শেষ নেই। এখানে আপনি চিতাবাঘ, হাতি, বুনো শূকর, বার্কিং ডিয়ার এবং সজারু দেখতে পাবেন। এছাড়াও এখানে রয়েছে কানহাকুন্ড স্টোন ক্যানিয়ন নদী যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে। জায়গাটি সুন্দরগড়েই অবস্থিত। এটিকে ওড়িশার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন বলা হয়।
আরও পড়ুনঃ দেখবেন ডলফিন, পরিযায়ী পাখি! ঘুরে আসুন বাংলার কাছে এক টুকরো ‘গোয়া’ নির্জন দ্বীপ থেকে
সরফগড় ড্যামটি হাজার হাজার দেশীয় এবং পরিযায়ী পাখিকে আকর্ষণ করে। ওড়িশা সরকারের বন ও পরিবেশ বিভাগ, ওড়িশা পর্যটনের সহযোগিতায়, এই প্রাচীন স্থানে পর্যটকদের জন্য টেকসই পরিবেশ-পর্যটনের সুযোগ করে দিতে একটি নেচার ক্যাম্প অবধি স্থাপন করেছে। পিকনিকের জন্যও এটি একটি ভালো জায়গা। এর পাশাপাশি মাসাবিরার পাহাড়ে ট্রেকিং এবং উষাকোঠির গুহার শিলাচিত্রগুলি সরফগড়ের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। এখানে আসা পর্যটকরা ঝাড়সুগুড়া-সুন্দরগড় সীমান্তে অবস্থিত হেমগিরি অঞ্চলের কোইলি ঘোঘর নদীতেও ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন। সুন্দর নদী, জলপ্রপাত এবং পিকনিক এলাকার পাশাপাশি, এটি শান্ত অরণ্যে ঘেরা একটি স্থান হল সরফগড়।
কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে প্রথমে ভুবনেশ্বর। তারপর সেখান থেকে বিমানে ঝাড়সুগুড়া এসে, তারপর সড়কপথে সুন্দরগড়ে যেতে পারেন। ভুবনেশ্বর থেকে ট্রেনেও ঝাড়সুগুড়া যাওয়া যায়। সড়কপথে ভুবনেশ্বর থেকে সুন্দরগড়ের দূরত্ব ৩৫০ কিমি। অন্যদিকে ঝাড়সুগুড়া থেকে প্রায় ৭০ কিমি দূরে অবস্থিত এই কানহাকুন্ড সুন্দরগড় শহর থেকে গাড়িতে মাত্র ৪৫ কিমি পথ।










