অনন্যা সরকার, পাটনা: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর (Bihar CM Samrat Choudhary) নেতৃত্বাধীন সরকার জমি ক্রয়-বিক্রয়, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া (Land Registration Process) এবং এর ন্যূনতম সরকারি মূল্যে ব্যাপক পরিবর্তন (New Rules) এনেছে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা গেজেটে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নতুন ব্যবস্থাটি ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুসারে, শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলের জমির ন্যূনতম সরকারি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি রেজিস্ট্রশন ফি এবং স্ট্যাম্প ডিউটির কাঠামোও আপডেট করা হয়েছে। আসুন এবিষয়ে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
বিহারে জমি রেজিস্ট্রির নতুন নিয়ম
এই নতুন নিয়ম চালু করার প্রধান উদ্দেশ্য হল জমি রেজিস্ট্রেশনে জালিয়াতি রোধ করা, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কৃষকদের তাদের জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। এবিষয়ে জানাতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা রেজিস্ট্রার অফিসার কুনাল গোস্বামী বলেছেন যে, সরকার শহরাঞ্চল, গ্রামাঞ্চল এবং শহর-সংলগ্ন এলাকার জন্য ন্যূনতম মূল্যায়ন রেজিস্টার হারে সংশোধন করেছে। এর অধীনে পুর কর্পোরেশন, পৌর পরিষদ এবং নগর পঞ্চায়েতের মালিকানাধীন জমির ন্যূনতম সরকারি মূল্য দ্বিগুণ করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় সরকারি জমির দাম বেড়েছে প্রায় ১.৬ গুণ। সরকারি দাম বৃদ্ধির ফলে, স্ট্যাম্প ডিউটি এবং রেজিস্ট্রেশন ফি এখন থেকে এই নতুন বর্ধিত মূল্যের ওপর ভিত্তি করে স্থির করা হবে।
এখন থেকে ভৌগোলিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে সুপাউল জেলার বিভিন্ন ব্লকসহ রাঘোপুর ও গণপতগঞ্জ এলাকার প্রধান বাজার, এনএইচ-২৭, এনএইচ-১০৬ এবং এসএইচ বরাবর বাণিজ্যিক প্লট ও জমির সার্কেল রেটে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। বিহার সরকারের জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, রাজ্যে জমি বা সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাধারণ স্ট্যাম্প ডিউটির হার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি সম্পত্তি কোনো পুরুষ থেকে কোনো মহিলার কাছে হস্তান্তর করা হয়, তবে ৬.৬ শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হবে। এছাড়া, অন্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটি প্রযোজ্য হবে। এমনকি আত্মীয় বা অন্যদের মধ্যে জমি দানের ক্ষেত্রেও, যদি হস্তান্তর কোনো পুরুষ থেকে কোনো মহিলার কাছে হয়, তবে ৬.৬ শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটি লাগবে।
অন্যান্য সকল স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দানপত্রের ওপর ৭% স্ট্যাম্প দিউটি ধার্য করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন অফিসার জানিয়েছেন যে, এই নতুন স্ট্যাম্প শুল্কের হার ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। ভূমি-সংক্রান্ত বিবাদ ও জালিয়াতি রোধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে ই-রেজিস্ট্রেশন পোর্টালকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই এখন রেজিস্ট্রেশনের আগে পোর্টালে জোন, মৌজা, খসরা, অ্যাকাউন্ট, সীমানা এবং বন্দকগ্রহীতার নাম সহ অনলাইনে জমির সম্পূর্ণ বিবরণ অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
এই আবেদনটি ঝাড়াই-বাছাইয়ের জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসারের কাছে পাঠানো হবে। এর জন্য ১০ দিনের একটি কঠোর সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। জোনাল অফিসারকে ১০ দিনের মধ্যেই তার রিপোর্ট বা আপত্তির কারণ জমা দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি না পাওয়া গেলে, আবেদনটি সরাসরি রেজিস্ট্রি অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং আবেদনকারী তৎক্ষণাৎ তার ফোন একটি এসএমএস নোটিফিকেশন পাবেন।
রেজিস্ট্রেশন অফিসার এও জানিয়েছেন যে, এই নতুন ব্যবস্থাটি সরাসরি জনগণের উপকারে আসবে। এতদিন পর্যন্ত সরকারি মূল্য বাজার দরের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল, তাই মানুষ তাদের নিজেদের মূল্যবান জমির ওপর কৃষি, ব্যবসা বা গৃহঋণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণ পেতে অসুবিধায় পড়তেন। সরকারি মূল্য বৃদ্ধির ফলে, ব্যাংকগুলো এখন সহজেই বেশি অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করতে পারবে। আবার, যখনই হাইওয়ে, বাইপাস বা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তখন জমির মালিকরা নতুন বর্ধিত সরকারি হারের ভিত্তিতে কয়েকগুণ বেশি ক্ষতিপূরণ পাবেন।
এই নতুন নিয়ম বাস্তবায়িত হওয়ার ফলে, সরকারি মূল্য ও বাজার দরের মধ্যকার বড় ব্যবধান দূর হবে এবং কম মূল্য দেখিয়ে ভূমি মাফিয়াদের কর ফাঁকি দেওয়া আটকানো যাবে। সার্কেল অফিসারের ১০ দিনের অনলাইন পরিদর্শন জালিয়াতি এবং নিয়মভঙ্গ করা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। জনসাধারণ তথ্য বিভাগের ভূমি তথ্য পোর্টালে গিয়ে তাদের জমির নতুন দর দেখতে পারবেন।










