সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ চাপের মুখে পড়ে অবশেষে নতুন বিজেপি সরকারও বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটানোর তোড়জোড় শুরু করল? সরকারি কর্মীদের মোট কয় কিস্তিতে এবং কতদিনের মধ্যে বকেয়া টাকা দেওয়া হবে সে বিষয়ে সরকারের নতুন আপডেট সামনে উঠে এসেছে। এমনিতে বিগত কয়েক বছর ধরে পঞ্চম বেতন পে কমিশনের বকেয়া টাকা আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করছেন সরকারি কর্মীরা। বর্তমানে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) বিচারাধীন। মামলার কবে সুরাহা হবে? উত্তর জানা নেই কারোর। একের পর এক শুনানি হলেও লাভের লাভ কিছু হচ্ছে না বলে অভিযোগ সকলের। তবে আগামী দিনে সরকার (Government of West Bengal) যে পদক্ষেপ নিতে চলেছে তা সকল কর্মচারীর পক্ষে লাভদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চার কিস্তিতে টাকা মেটাবে সরকার?
সূত্রের খবর, পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ-র ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের অংশটা চারটি কিস্তিতে ওই সময়ের কর্মীদের দিতে নাকি উদ্যোগী হয়েছে বাংলার বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যে বকেয়া প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের তরফে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশিকা এসে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি জানিয়েছে, যাঁদের ই-সার্ভিস বুক ডিজিটালভাবে স্ক্যান ও আপলোড সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া DA-র প্রথম কিস্তি আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। আর এই টাকাই সরকার চার কিস্তিতে মেটাতে চাইছে বলে খবর।
কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী পেনশন প্রাপকদের কপাল না খুললেও যেসব পেনশনভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কলকাতার বাইরে, বকেয়া ডিএ-র পুরো টাকা দুই কিস্তিতে তাঁরা ইতিমধ্যেই পেয়ে গিয়েছেন। এদিকে কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী কর্মীদের ভাগ্যের শিকে কবে ছিঁড়বে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমনকি গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদেরও কবে টাকা মেটানো হবে সেই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকায় কোনও উল্লেখ নেই বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ বাংলায় নতুন পেনশন ব্যবস্থা লাগু হওয়ার আগেই চরম হুঁশিয়ারি, কী করবেন কর্মীরা?
কী হবে গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের?
ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার গত জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, গ্রান্ট-ইন-এইডে চলা প্রতিষ্ঠানগুলির বকেয়া ডিএ এই মামলার আওতাভুক্ত নয়। তবে ওই কর্মীদেরও বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে রাজ্য সরকার ইচ্ছুক। আগামী ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি। মামলার অন্যতম পক্ষ কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে সওয়াল জবাব হবে ১৮ আগস্ট। কত কী টাকা আমরা আদায় করে আনতে পারব সেটা পরবর্তী সময়েই বোঝা যাবে। কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী পেনশনারদের ব্যাপারে ভাবলে খারাপ লাগে। সরকার একটাবারও তাঁদের কথা ভাবছে না। ১ জুন মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম আপনি দেখুন যে কেএমসি এলাকায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ২০০৮ সালের আগে তাঁরা অবসর নিয়েছেন। তাদের টাকাটা দিয়ে দিন।’










