লাঠিচার্জে গুরুতর জখম, ৯ দিন অনশনের পর হাসপাতালে ভর্তি দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো

Published:

Ranchi Protest

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লির পর ছাত্র আন্দোলনের আগুন চলছে ঝাড়খণ্ডে (Ranchi Protest)। গতকাল রাঁচিতে বিধানসভা অভিযানের ডাক দেয় ছাত্র যুবরা। এমনকি সেখানে তৈরি হয় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। তবে ছাত্রদের হয়ে এই আন্দোলনে অনশনে বসেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো (Devendra Nath Mahato)। এমনকি টানা ৯ দিন ধরে অনশনরত অবস্থাতেও গতকাল অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি বিধানসভা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তবে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কজনক হওয়ায় রাঁচির এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে।

হাসপাতালে ভর্তি দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং স্টাফ সিলেকশন কমিশনের বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে চলছে ছাত্রদের এই আন্দোলন। এমনকি তাদের দাবি ছিল, সিজিএল পরীক্ষা বাতিল করতে হবে এবং সিবিআই তদন্তের অনুমতি দিতে হবে। তবে রাজ্যটির মুক্তি মোর্চা সরকার স্পষ্ট জানায়, এই ইস্যুতে কোনও পদত্যাগ হবে না, এবং ইডি কিংবা সিবিআই তদন্তের অনুমতি দেওয়া হবে না। এর পরপরই বিধানসভা আন্দোলনের ডাক দেয় ছাত্র যুবরা।

গতকাল অ্যাম্বুলেন্সে চেপে বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। তবে মিছিলটি বিধানসভার দিকে এগোতেই বাধা দেয় পুলিশ। এমনকি ছাত্রদের উপর জল কামান, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। পাশাপাশি লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে। তবে ছাত্ররা তাদের দাবিতে অনড় থাকে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে পুলিশের লাঠির আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন দেবেন্দ্র, এমনটাই দাবি তাঁর সহযোগী পঙ্কজ কুমারের। পাশাপাশি ওই সংঘর্ষে একাধিক আন্দোলনকারী পরীক্ষার্থী থেকে শুরু করে চারজন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। এদিকে দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর রক্তে শর্করার মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে সঙ্কটজনক বলেই জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফের লাগামছাড়া বাড়ল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট

এদিন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনের ছবি হাতে নিয়েই হুইলচেয়ারে বসে হুঁশিয়ারি দিতে থাকেন দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। তিনি জানান, “অনশনে থাকা সত্ত্বেও কাঁটাতারের বেড়া আমাদেরকে থামাতে পারবে না। সরকার ছাত্রদের দাবি মানতে বাধ্য হবে। আমরা রক্তপাত চাই না। আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করা হতে পারে। কিন্তু বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। সরকার যদি দাবি না মানে তাহলে গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস এদেরকে মনে রাখবে, এবং আমি কোনও ভাবে অনশন ভাঙব না।” তবে আপাতত চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।